বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে এখনো অনেক পিছিয়ে থাকলেও সরকার এখন এই খাতে দ্রুত অগ্রগতি আনতে কাজ করছে। বিশেষ করে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র–এ ‘বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপো’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নীতিগত সহায়তা। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নীতিমালার ভিত্তি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সঠিক নীতি সহায়তা পেলে এই খাতে দ্রুত বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে যেমন নীতিগত সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, তেমনি সৌরবিদ্যুৎ খাতেও একই ধরনের সহায়তা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, ইনভার্টার, ফটোভোল্টাইক প্যানেল ও ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থার জন্য সহজ আমদানি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাটারি স্টোরেজকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে সন্ধ্যার সময় বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা যায়। সরকার করের চাপ কমিয়ে উদ্যোক্তাদের জন্য সোলার প্রকল্পকে আরও সহজ করতে চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আগামী জুনের মধ্যে নীতিমালা চূড়ান্ত করে সরকারি আদেশ জারির পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশের মোট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা ও অন্যান্য শহরের ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এতে নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল সমন্বয় করা হবে এবং ভবন মালিকরাও লাভবান হবেন। এক্সপোতে ১২টি দেশের প্রায় ১৪০টি কোম্পানি অংশ নিয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অবকাঠামো উন্নয়নের আধুনিক প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন