সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের উত্তরে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে বিস্তৃত দেখার হাওর এলাকায় এবার বোরো ধান ঘিরে ভয়াবহ বিপর্যয়ের চিত্র দেখা গেছে। সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা বেষ্টিত এই হাওর অঞ্চল এখন ফসলহারা কৃষকদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই ধানের মাঠে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। অনেক জমির ধান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে, কিছু ধান পচে গেছে এবং অনেক জায়গায় রোদ না পাওয়ায় ধানে অঙ্কুরও দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক কৃষক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
গোন্দিগঞ্জ এলাকায় সড়কের ওপর কৃষকেরা ধান শুকানো, বস্তায় ভরা ও খড় শুকানোর কাজ করছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বিশিষ্টজনরা অভিযোগ করেছেন, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় কম তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তারা পরিস্থিতি যাচাইয়ে ঢাকা থেকে নিরপেক্ষ সার্ভে টিম পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায়ও এ বিষয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী জেলার ৮০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে বলা হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষক প্রতিনিধিরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের দাবি, বাস্তবে এখনো অর্ধেক ধানও কাটা সম্ভব হয়নি। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৫০ হাজার কৃষক পরিবার ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে স্থানীয়দের মতে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি।
জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছরই হাওরাঞ্চলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সভা শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়। তবে কৃষকরা দ্রুত ও সঠিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন