ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী: শামা ওবায়েদ ‘খেলা এখনো শেষ হয়নি, আমাদেরও সময় আসবে’ প্রথমবারের মতো এক মন্ত্রণালয় সামলাতে ৩ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নিশ্চয়ই কোনও প্ল্যান আছে: বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী মন্ত্রী জাতীয় অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ইমরান খানকে শিফা হাসপাতালে না নেওয়ায়, সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা পিটিআইয়ের ‘বোরকা আইন’: পর্তুগালে জনসমক্ষে বোরকা ও মুখঢাকা পোশাকে নিষেধাজ্ঞা এলজিআরডি মন্ত্রী হলেন ড. আবদুল মঈন খান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন সাচিং প্রু জেরী তথ্যমন্ত্রী হলেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ

ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনের সময়, তবুও বিএনপির অপেক্ষায় ইসি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নির্বাচনী মাঠে বিএনপির অভাব বোধ করছে নির্বাচন
  • আপলোড সময় : ২৮ নভেম্বর ২০২৩, সকাল ৮:৩২ সময়
  • আপডেট সময় : ২৮ নভেম্বর ২০২৩, সকাল ৮:৩২ সময়
ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনের সময়, তবুও বিএনপির অপেক্ষায় ইসি ছবি : সংগৃহীত
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নির্বাচনী মাঠে বিএনপির  অভাব বোধ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অংশগ্রহণমূলক ও সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং বিমূখ ভোটারদের কেন্দ্রে ফিরিয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে দলটির দিকে মনোযোগী হয়ে ওঠেছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। যে কারণে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) অপরাপর নির্বাচন কমিশনাররা বিএনপিকে ভোটে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা জানান দিচ্ছেন। এজন্য প্রয়োজনে তফসিল পুণনির্ধারনের কথাও বলছেন তারা।

সবশেষ আজ সোমবারও (২৭ নভেম্বর) দুই নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা ও মো. আলমগীর বিএনপি ভোটে ফিরে এলে সব ধরনের সুযোগ সৃষ্টি, লেভেল প্লে য়িং ফিল্ড তৈরি এবং সর্বোপরি তফসিল পুণনির্ধারণের কথা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া সোমবার বগুড়ায় এক প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা বিএনপি বা অন্যান্য দল নির্বাচনে আসলে ইসি পুনরায় তফসিল ঘোষণা করার কথা বলেছেন। কতদিনের মধ্যে অন্যান্য দলসহ বিএনপি নির্বাচনে আসার ঘোষণা দিলে ইসি বিষয়টি বিবেচনা করবে- এমন প্রশ্নের জবাবে রাশেদা সুলতানা বলেন, আমরা চাই নিবন্ধন পাওয়া সব দল অংশগ্রহণ করুক। এই কারণে যারা নির্বাচনে আসতে চাচ্ছে না তাদের আহবান করছি। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ২৮ জানুয়ারির বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই সময়ের মধ্যেই ভোট অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে।

গত ১৫ নভেম্বর আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। ভোট অনুষ্ঠিত হবে ৭ জানুয়ারি। তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। তফসিল ঘোষণার পর দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলগুলো ভোটে অংশ নেয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু তফসিল প্রত্যাখ্যান করে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশন থেকে বারবারই তাদের ভোটে ডাকা হলেও বিএনপি তাতে কান দিচ্ছে না।

ইসি রাশেদা বলেন, আমরা এখনও আশাবাদী যে ওনারা (বিএনপি) আসবেন। যদি আসেন তাহলে আমরা অবশ্যই বিবেচনায় নিবো। আসলে অবশ্যই আমাদের নির্বাচনী মেয়াদকালের মধ্যে আসতে হবে। তার বাইরে যাওয়া যাবে না। কোনোভাবেই ২৮ জানুয়ারির বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। এটি সংবিধানের বিধান। 

এদিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি আসবে না এটা তাদের বিষয়। আমাদের আহ্বান হলো সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। তিনি বলেন, বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে, আমরা যে শিডিউল ঘোষণা করেছি, তাদের সুবিধার্থে নির্বাচনের তারিখ পুননির্ধারণ করব। তবে খেয়াল রাখতে হবে সংবিধান অনুযায়ী যে কাট-অফ ডেট রয়েছে সেটার বাইরে যেতে পারব না। এই সময়সীমার মধ্যে নতুন তারিখ ঘোষণা করতে হবে।

মো. আলমগীর বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন সবসময় বিএনপিকে ওয়েলকাম করি। তারা যখনই নির্বাচনে আসার সম্মতি প্রকাশ করবে তখনই আমরা সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমরা চাই সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে সরকার গঠিত হোক। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন ও নির্বাচনের পরে সেটা সংখ্যালঘু হোক, প্রার্থী হোক, সাধারণ ভোটার হোক বা যেই হোক না কেন সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনের আগে ও পরে সজাগ থাকবে।

ভোট সুষ্টু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যিনি প্রার্থী হবেন, যিনি ভোটার সবাই আচরণবিধি মেনে তার রাজনৈতিক যে অধিকার রয়েছে তা প্রয়োগ করতে পারবেন। এ বিষয়ে কাউকে কেউ বাধা দিতে পারবে না। যদি কেউ বাধা দেয় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে যদি রিটার্নিং কর্মকর্তা ব্যবস্থা না নেন এবং তা যদি নির্বাচন কমিশনারের নজরে আসে তাহলে সে বিষয়ে রির্টানিং কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।

ভোটের তারিখ পেছানো এবং পুনঃতফসিল ঘোষণার বিষয়টি কদিন ধরেই বাতাসে ভাসছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের দেয়া বক্তব্যের সূত্র ধরেই বিষয়টি জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করে। তবে বরাবরই নিশ্চুপ ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। অবশেষে বিষয়টি সুরাহা করতে মুখ খুলেন তিনি। রবিবার তিনি জানান, বিএনপি নির্বাচনে এলে

পুনরায় তফসিল হতে পারে! বিএনপি ভোটে না আসলে কী করবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে আমি উত্তর দেবো না। বিএনপিকে আমরা আহ্বান জানিয়েছি। একবার নয়, দুবার নয়, পাঁচ বার নয়, দশবার আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমি জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণেও বলেছিলাম সময় ফুরিয়ে যায়নি। এখনো সুযোগ আছে। আমরা সব সময় সংলাপের কথা বলেছি। সব সময় সমঝোতার কথা বলেছি। উৎসবমুখর ও অনুকূল পরিবেশের কথা বলেছি। সিইসি বলেন, সবার মধ্যে যদি সমঝোতা হয় তাহলে আমাদের জন্য জিনিসটা আরো অনুকূল হয়ে ওঠে। আমরা এখনো আশা করি হয়তোবা উনারা আসতেও পারে। যদি আসে সেটা আমাদের জন্য, সকলের জন্য, পুরো জাতির জন্য একটা সৌভাগ্য হবে। কারণ আমরা চাই নির্বাচনটা অংশগ্রহণমূলক হোক। সবাই অংশগ্রহণ করুক।

এর আগেও ইসির পক্ষ থেকে একাধিকবার জানানো হয়েছে, বিএনপি নির্বাচনে এলে ভোট পেছানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। কমিশনাররা নানা সময়ে সাংবাদিকদের কাছে এই বিষয়ে কথা বলেছেন। তফসিল ঘোষণার পর গত রবিবার বিএনপি নির্বাচন এসে যদি সহায়তা চায় কমিশন অবশ্যই সহায়তা করবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। যারা নির্বাচনে অংশ নেবে তাদের জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি। মো. আলমগীর বলেন, বিএনপি যদি বলে আমরা নির্বাচন করবো, আমাদের সহায়তা করেন। তাহলে অবশ্যই আমরা সহায়তা করবো। তবে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব আমাদের না। যেসব দল নির্বাচনে অংশ নেবে, তাদের জন্য যতরকম চেষ্টা করা তা করা হবে। যারা নির্বাচনে আসবে না তাদের ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই।

এদিকে নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান বরাবরই বলে যাচ্ছেন, বিএনপি নির্বাচনে এলে ভোট পেছানোর সুযোগ আছে। গত ২৩ এবং ২৪ নভেম্বর সিলেট বিভাগে পৃথক দুই কর্মসূচিতে তিনি বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, তারা নির্বাচনে এলে আমাদের হাতে ভোট পেছানোর সুযোগ আছে। কারণ এখনও যথেষ্ট সময় আছে। তবে এখন পর্যন্ত কারও কাছ থেকে ওইরকম দাবি পাইনি। আনিছুর রহমান বলেন, বিএনপি একটা বড় দল, নির্বাচনের বাইরে আছে। তারা যদি অংশগ্রহণ করে, তফসিল পেছানোর সুযোগ রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে নির্বাচনে আসার প্রস্তাব এলে বিবেচনায় নেয়া যাবে। তফসিল পুননির্ধারণ করা হবে।

একই কথা বলছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবিব খান। গত শনিবার ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি যদি নির্বাচনে আসতে চায়, তাহলে কমিশন তফসিল পেছানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। ভোটারদের অভয় দিয়ে ইসি আহসান হাবিব খান বলেন, আমরা আশ্বস্ত করতে চাই, ভোটারা নির্ভয়েকেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারবেন। সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। এক প্রশ্নের জবাবে আহসান হাবিব খান বলেন, আমরাও চাই, দেশের জনগণও চায় শতভাগ রাজনৈতিক দল ভোটে অংশ নিক। কিন্তু ওনাদের এজেন্ডা একটু আলাদা। যা সংবিধানের মধ্যে নেই, তা আমাদের কাজও না। রাজনৈতিক দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাকেই আমরা স্বাগত জানাব।
  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কানাডার সঙ্গে চুক্তি করে শুল্ক স্থগিত করলেন ট্রাম্প

কানাডার সঙ্গে চুক্তি করে শুল্ক স্থগিত করলেন ট্রাম্প