ঢাকা | |

অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামাল দিতেই লেবাননে হামলা চালায় নেতানিয়াহু

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার যে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, তা মূলত
  • আপলোড সময় : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ৩:৪৫ সময়
  • আপডেট সময় : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ৩:৪৫ সময়
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামাল দিতেই লেবাননে হামলা চালায় নেতানিয়াহু

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার যে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, তা মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার কৌশল বলে দাবি করেছেন দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা। ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইসরায়েল হায়োম-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা ছিল মূলত ‘শক্তি প্রদর্শন’ বা লোকদেখানো হুঁশিয়ারি। এর উদ্দেশ্য ছিল জনরোষ প্রশমিত করা এবং চলমান যুদ্ধের দায়ভার সেনাবাহিনীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া। সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘোষণার পর রণক্ষেত্রে কার্যত কোনো বড় ধরনের সামরিক পরিবর্তন দেখা যায়নি।


প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘোষণার পরও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে আগের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে নতুন কোনো কৌশলগত পরিকল্পনা বা অপারেশনাল পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘোষিত যুদ্ধবিরতির রূপরেখার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়, প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিলেও পর্দার আড়ালে আগের সমঝোতা বজায় রেখেই এগোচ্ছে প্রশাসন।


বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ও লেবানন সংঘাতে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে দেশের ভেতরে যে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই নেতানিয়াহু এমন কঠোর বক্তব্য দিচ্ছেন। এদিকে ২৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস-এর সামনে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মুখোশ পরে বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। সামরিক মহলের ধারণা, এই চাপের মুখে নিজেকে শক্তিশালী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে এবং সম্ভাব্য ব্যর্থতার দায় এড়াতে সেনাবাহিনীকে সামনে ঠেলে দিচ্ছেন তিনি।


সামগ্রিকভাবে এই প্রতিবেদন ইসরায়েল সরকারের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সংকট ও আস্থাহীনতার বিষয়টি সামনে এনেছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ তীব্র করার কথা বলছেন, অন্যদিকে সেনাবাহিনী আগের পরিকল্পনা অনুযায়ীই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই দ্বিমুখী অবস্থান হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ এবং যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।


সূত্র: মিডল ইস্ট আই

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
শান্তর পর লিটনের ফিফটি, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ

শান্তর পর লিটনের ফিফটি, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ