ছেলের প্রথম জন্মদিন—যেখানে থাকার কথা ছিল আনন্দ, কেক আর উদযাপন—সেই দিনই বাবাকে দাফন করতে হলো পরিবারকে। নির্মম বাস্তবতায় শোকের ভারে নুয়ে পড়েছে কুমিল্লায় নিহত রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর পরিবার। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকায় একটি হোটেলের পাশ থেকে বুলেট বৈরাগীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
লাশবাহী গাড়িতে করে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার গ্রামের বাড়িতে। গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। রাতেই সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে দাফন করা হয়। এদিকে, স্বামীর মৃত্যু এখনও মেনে নিতে পারছেন না স্ত্রী উর্মী হীরা। শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে বাবার কবরের দিকে নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এক বছর বয়সী ছেলে অব্বয়—যার আজ প্রথম জন্মদিন।
নিহতের মা-বাবাও সন্তান হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছেন। তাদের আহাজারিতে কেঁপে উঠছে আশপাশের এলাকা। নিহতের শাশুড়ি মমতা হীরা বলেন, “আজ আমার নাতির জন্মদিন। কে জানতো, এই দিনটি বাবাকে দাফনের মধ্য দিয়ে কাটাতে হবে! এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যা। আমরা দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
স্ত্রী উর্মী হীরা জানান, জন্মদিন উপলক্ষে দুই দিন আগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন বুলেট। “শেষবার কথা হয়েছিল, বলেছিল—আমি রওনা হয়েছি। কিন্তু আর জীবিত ফেরা হলো না,” বলেন তিনি। বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার হিসেবে ঢাকা কাস্টমস কার্যালয়ে যোগ দেন এবং সর্বশেষ কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন। চাকরির কারণে কুমিল্লা নগরে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
গত ১১ এপ্রিল প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামে যান তিনি। প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার রাতে কুমিল্লায় ফেরার পথে পরিবারের সঙ্গে শেষবার কথা বলেন। এরপর হঠাৎ তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে মহাসড়কের পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা হাইওয়ে থানায় গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। পুলিশ জানায়, তার মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন