বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে দীর্ঘদিনের জট, ধীরগতি ও নিয়োগ অনিশ্চয়তা দূর করতে বড় ধরনের সংস্কারের পথে এগিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি ও স্বচ্ছতা আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পিএসসি তাদের এই সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরে। নতুন কমিশনের নেওয়া পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’—অর্থাৎ এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিয়োগের মানোন্নয়নে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০০ কমিয়ে লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নিজস্ব মুদ্রণ ব্যবস্থা স্থাপন এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অটোমেশনের আওতায় আনার ফলে খাতা মূল্যায়নের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। আগে যেখানে প্রায় ছয় মাস সময় লাগত, এখন তা কয়েক সপ্তাহেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চাকরিপ্রার্থীদের আর্থিক চাপ কমাতে আবেদন ফি ৭০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম জানান, কমিশনকে আধুনিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করাই এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য। একই ধরনের পরিবর্তন নন-ক্যাডারসহ অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষাতেও আনা হবে।
পিএসসি জানিয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন