ময়মনসিংহ, ৯ এপ্রিল (ইত্তেফাক) – গফরগাঁও উপজেলার টাংগাব ইউনিয়নের বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এককক্ষবিশিষ্ট টিনের চালা ঘরে দুই শিক্ষার্থী দিয়ে চলছে। বিদ্যালয়ের অনুমোদিত শিক্ষকের সংখ্যা ছয় হলেও বর্তমানে কাজ করছেন মাত্র দুই জন শিক্ষক। আশপাশের দুই বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে এই বিদ্যালয়টি একমাত্র সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীই প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। নাজিফা নামের এক শিক্ষার্থীর মা সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তার মেয়েকে জোরপূর্বক বিদ্যালয়ে আনা হয়। অন্য শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়ের মূল ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ২০১৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বরাদ্দে একটি অফিস কক্ষ ও দুটি শ্রেণিকক্ষবিশিষ্ট টিনের চালাঘর নির্মাণ করা হয়। তবে একটি কক্ষ গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে, ফলে শিক্ষকেরা কেবল একটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে পারছেন।
শিক্ষক জহিরুল ইসলাম জানান, “একমাত্র শ্রেণিকক্ষে পড়ানোর পাশাপাশি আমরা শিক্ষার্থী বাড়ি বাড়ি খুঁজলেও কেউ আসে না। গরমের দিন চলাচল কঠিন। ফ্যান ও বেঞ্চ চুরি হয়ে গেছে। অফিস কক্ষও ঠিকাদারির দখলে, তাই আমাদের বসার জায়গা নেই।”ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুলতানা রাজিয়া জানান, বহু বছর ধরে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসকে অবহিত করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানান, শিক্ষার্থী কম হওয়ার খবর জানলেও সময়ের অভাবে বিদ্যালয় পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষকদের বলা হয়েছে শিক্ষার্থী ফিরিয়ে না আনলে বিদ্যালয়টি এবুলিস্ট বা বিলুপ্ত করা হতে পারে।
পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, শিক্ষক-শিক্ষার্থী কম এবং শিক্ষার পরিবেশ অনুপযুক্ত থাকার কারণে প্রাথমিক শিক্ষায় গুরুতর প্রভাব পড়ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন