ঢাকা, ৯ এপ্রিল (ইত্তেফাক) – ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই অগ্রগতি পাকিস্তানের ধারাবাহিক কূটনৈতিক মধ্যস্থতার ফল। (সূত্র: ডন, ২০২৬) মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার শুরু থেকেই পাকিস্তান সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষত ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রথম দফার হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই ইসলামাবাদ বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানীতে নীরব কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করে। প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ থাকলেও, পাকিস্তান নিজেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কার্যকর সেতু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক মাইকেল কুগেলম্যান মন্তব্য করেন, পাকিস্তান সফল হয়েছে কারণ তাদের সকল গুরুত্বপূর্ণ পক্ষের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক, হোয়াইট হাউজের আস্থা, ইরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং তেহরানের সমর্থন রয়েছে। এই ভূমিকা পাকিস্তানকে এই অঞ্চলে একটি বিশেষ কূটনৈতিক অবস্থান দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বৈঠকে সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল সামরিক উত্তেজনা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপের কাঠামো তৈরি করা।
পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখেন। একই সময়ে পাকিস্তান ইরানের বিভিন্ন মহলের সঙ্গেও সংযোগ রক্ষা করেছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর ফলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ হয়েছে এবং প্রত্যক্ষ আলোচনার পথ খুলে গেছে। ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির রূপরেখা তৈরি করা হবে।
বিশ্লেষকরা একমত, পাকিস্তানের ধারাবাহিক, বিচক্ষণ ও নিখুঁত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ছাড়া এই অগ্রগতি সম্ভব হত না। সাময়িক এই যুদ্ধবিরতি পাকিস্তানের কূটনৈতিক সক্ষমতার বড় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন