দেশে এই সময়কাল শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা গেলেও মূল সমস্যা হচ্ছে মৌসুমী সর্দি, কাশি এবং জ্বর। শিশু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নাক দিয়ে পানি পড়া, সর্দি বা জ্বরের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নয়, বরং প্যারাসিটামল ও পর্যাপ্ত যত্নই উপযুক্ত। বর্তমান ঋতু পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মধ্যে সাধারণ সর্দি-কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে হামের সঙ্গে এসব উপসর্গের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। শিশুদের জ্বরের সঙ্গে নাক দিয়ে পানি পড়া হলে সেটি হামের লক্ষণ নয়। হামের প্রকৃত উপসর্গ হলো চার দিনের জ্বরের সঙ্গে দেহে লালচে র্যাশ দেখা যাওয়া।
জ্যেষ্ঠ শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেছেন, “সাধারণ সর্দি-কাশি বা জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। হামের সঙ্গে সেগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। হামের সঠিক শনাক্তকরণ শুধু জ্বর এবং লালচে র্যাশের মাধ্যমে সম্ভব।” শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সফি উদ্দিন বলেছেন, “সর্দি, কাশি, জ্বর ও নাকের পানি পড়ার ক্ষেত্রে শুধু প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়ান। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া ঠিক নয়। প্রতিদিন প্রাইভেট চেম্বারে প্রচুর শিশু আসে, যেখানে হামের উপসর্গ খুবই কম।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, ঋতু পরিবর্তনের কারণে সর্দি, কাশি ও জ্বর বেশি হচ্ছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পাশাপাশি হাম প্রতিরোধে দেশব্যাপী শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম চলছে। অভিভাবকদের শিশুদের স্বাস্থ্য ও টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন