অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ সরাসরি আইনে রূপান্তরের জন্য সংসদে বিল আকারে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে পরবর্তীতে বিল আকারে উপস্থাপনের প্রস্তাব থাকলেও, ২০টি অধ্যাদেশ আপাতত কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
বিস্তারিত:
গত বৃহস্পতিবার সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সুপারিশ প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করেন। সুপারিশ অনুযায়ী, কার্যকারিতা হারানো ২০টি অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে:
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার—
মানবাধিকার কমিশন ক্ষমতা বৃদ্ধির অধ্যাদেশ
দুদক সংক্রান্ত অধ্যাদেশ
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ
পুলিশ কমিশন, গণভোট, ব্যাংক রেজুলেশন, রাজস্ব নীতি ও মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ
গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ:
২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুমকে ‘চলমান অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান বিশেষ কমিটি এটিকে সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করার সুপারিশ করেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আপত্তি অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন। বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্টে বলা হয়েছে, এভাবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আটক ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থাপন না করলে সংবিধানের লঙ্ঘন হবে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা:
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের জন্য স্বতন্ত্র ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠন করেছিলেন। এছাড়া নিম্ন আদালতের বিচারকের নিয়োগ ও বদলির জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। এই অধ্যাদেশও কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
মানবাধিকার কমিশন:
মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকর করার জন্য তিনটি অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। বর্তমান সুপারিশে এগুলোর বিল আকারে উপস্থাপনা স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিশেষ কমিটির মন্তব্য:
জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেগুলো সংসদে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত। ভবিষ্যতে যাচাই-বাছাই করে নতুন বিল আনা হতে পারে।’
প্রতিক্রিয়া:
বিএনপি ও জামায়াত সদস্যরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, অধ্যাদেশগুলোর বাদ বা রিভিউ মূলত আমলাতন্ত্রের প্রভাব।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, সংশোধনী আকারে সংরক্ষণ সম্ভব ছিল, তবে বাতিল করা সমাধান নয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
আগামী সোমবার থেকে সংসদ অধ্যাদেশ অনুমোদনের কার্যক্রম শুরু করবে।
৯৮টি অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন হবে।
৪টি অধ্যাদেশ বাতিল এবং ১৬টি পরবর্তী সময়ে সংশোধন করে বিল আকারে উপস্থাপন হবে।
সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণের সিদ্ধান্ত সরকারের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন