কিশোরগঞ্জে কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই, সঙ্গে বইছে কনকনে শীতের হাওয়া। তীব্র শীতের প্রভাবে জেলার জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা, বাজারে মানুষের উপস্থিতি কম এবং সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। এরই মধ্যে টানা তিন দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় নিকলীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
নিকলী প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহেদুল ইসলাম মাসুম এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত বছর শীত মৌসুমে দুই দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নিকলীতে রেকর্ড হয়েছিল। তবে চলতি বছরে তা টানা তিন দিনে পৌঁছেছে।
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। হাটবাজারে মানুষের আনাগোনা কমে গেছে, রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা। দোকানপাট দেরিতে খুলছে এবং রিকশা-ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচলও কমেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকেরা।
নিকলী হাওর এলাকার কৃষক কালীপদ সাহা জানান, শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বোরো ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে তিনি জানান। অন্যদিকে, শীতের কারণে অনেক দিনমজুর কাজে বের হতে পারছেন না, ফলে তাদের জীবনযাত্রা আরো কষ্টকর হয়ে উঠছে।
শীতের প্রভাবে হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে।
জেলা শহরের প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা মিঠুন চক্রবর্তী জানান, গত কয়েক দিনে ব্যথাজনিত রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। শীত আরো বাড়লে সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, শীতের এই পরিস্থিতি আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্ম্মা জানান, অতিরিক্ত শীতের কারণে হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষভাবে সুরক্ষায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন