চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মো. শফিউল আলম চৌধুরী ওরফে শফি (৬২) নামের এক নৈশপ্রহরীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় দুই দিন পর শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের সড়কের একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানটি তার বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার এবং কর্মস্থল চারা বটতল বাজার এলাকা থেকে আনুমানিক এক কিলোমিটার দূরে।
থানা পুলিশ সকাল ১০টার পর লাশের সুরতহাল করে উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত শফি রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াহেদেরখীল এলাকার ওয়াহেদ আজম চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা। তিনি গত একবছর ধরে একই ওয়ার্ডের চারা বটতল বাজারে নৈশপ্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে, তিনি রিকশা চালাতেন ও কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শফি গত বৃহস্পতিবার রাতে নিখোঁজ হন।
শুক্রবার সকাল থেকে বিষয়টি পরিবার জানতে পারে। শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন ঝোপের পাশে পড়ে থাকা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পরিবারকে খবর দেয়। পরে রাউজান থানা পুলিশকে জানানো হলে মরদেহটি উদ্ধার করে তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তার গলায় দাগ, মাথায় আঘাত, কানের লতিতে ক্ষত এবং বাম চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, বুধবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বাজার এলাকায় হাঁটার সময় পাগল সেজে ডাক দেওয়াকে কেন্দ্র করে একজন তাকে মারধর করে। ওই সময় কানের পাশে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি নিখোঁজ হন।
নিখোঁজের সময় তার কর্মস্থল চারা বটতল বাজারের একটি স'মিলের সামনে তার ছাতা, একটি টর্চলাইট, ভাতের টিফিন, কাপড়চোপড়, চায়ের গ্লাসসহ ব্যক্তিগত মালামাল পড়ে থাকতে দেখা যায়।
নিহতের ছোট ছেলে ইসহাক চৌধুরী জানান, শনিবার সকালে এলাকার সুজনসহ দুইজন যুবক মোটরসাইকেলে করে চারা বটতল এলাকায় যাওয়ার সময় আমার বাবার নিথর দেহ দেখতে পান। এরপর তারা আমাদের খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
তিনি আরো বলেন, ‘আজ বাবাকে যেখানে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে সেখানে শুক্রবার দিনের বেলায়ও আমরা খুঁজেছি পাইনি। শনিবার সকালে পাওয়া যায়। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্চে বাবাকে অন্য কোথাও হত্যা করে ওই স্থানে এনে ফেলেছে দুবৃত্তরা।’
রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন