বান্দরবানের রুমা উপজেলা সদরে সেনাবাহিনীর গুলিতে কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) এক সদস্য আহত হয়েছে। সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা সদরের জাইয়াংপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত যুবক সদরের বেথেলপাড়ার বাসিন্দা বয়রাম বম (২৫)। তার কাছ থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বয়রাম বমকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার রুমা উপজেলা সদরের সাপ্তাহিক বাজারের দিন। আজ সোমবার সকালে নৌ পথে এসে সাঙ্গু নদের ঘাট হতে কেএনএফের একাধিক সদস্যের সশস্ত্র একটি গ্রুপ জাইয়াংপাড়ার বম হোস্টেলে অবস্থান নেয় । তাদের উদ্দেশ্য ছিল সোর্সের মাধ্যমে চাঁদা আদায় ও নিত্যপণ্যের বাজার করা। পরে ১১ টার দিকে সেনাবাহিনীর রুমা জোনের একটি টহল দল উপস্থিত হলে গ্রুপটি ছত্রভঙ্গ হয়ে পালাতে শুরু করে। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে কেএনএফের এক সদস্যকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসের শেষের দিকে দিনের বেলায় কেএনএফের ১০-১২ জনের সশস্ত্র একটি গ্রুপ উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের চাইরাগ্র মারমা পাড়ায় হানা দেয়। সেসময় পাড়াবাসীর বেশ কয়েকটি মুরগি ধরে নিয়ে যায় গ্রুপটি। একইসঙ্গে পাড়ার সব পরিবার থেকে প্রতিমাসে ৫০০ টাকা হারে চাঁদা না দিলে কারবারিকে (পাড়া প্রধান) ধরে নিয়ে যাবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়।
সবশেষ চলতি মাসের ৫ তারিখ রাত ৯ টার দিকে কেএনএফের ১০-১২ জনের সশস্ত্র একটি গ্রুপ সদর ইউনিয়নের পলিকাপাড়ায় হানা দেয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী অগ্রসর হলে তা বুঝতে পেয়ে গ্রুপটি পালিয়ে যায়।
এ ছাড়া একাধিক বম পাড়ায় অবস্থান করে নিয়মিতভাবে খাবার দাবি করে আসছে কেনএনএফ। বম পাড়াগুলোতে কেএনএফের দাবি, ইতিমধ্যে বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলা তাদের দখলে চলে এসেছে। এ বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে রাঙ্গামাটির রাজস্থলি, বিলাইছড়ি, বাঘাইছড়ি ও বরকল উপজেলা দখলে আসবে। কেএনএফ সাত উপজেলা নিয়ে গঠিত একটি রাজ্য গঠন করবে। সেনাবাহিনীর অভিযানের ভয়ে এখন কেএনএফের যারা পালিয়ে রয়েছে, রাজ্য গঠনের পর সরকার তাদেরকে পুণর্বাসনসহ নানা সুবিধা প্রদান করবে। একইসঙ্গে বম জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে তাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য একাধিক বম নেতাকে সেলফোনে ও সরাসরি তাগাদা দিচ্ছে কেএনএফ। এতে জনগোষ্ঠীটির কিছু সংখ্যক মানুষ বিশ্বাস করলেও অধিকাংশই কেএনএফের আশ্বাসকে অর্থবহ মনে করছেন না। এ জন্য বম পাড়াতেও কেএনএফের স্থান মিলছে না বলে সূত্র জানায়।
অন্যদিকে কেএনএফ তাদের ফেসবুক পেজে এ ঘটনায় আহত ব্যক্তি তাদের সদস্য নয় বলে দাবি করেছে।
এদিকে গত বছর ও তার আগের বছরে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে সরকারি একটি এলিট ফোর্সের করা একাধিক প্রেস ব্রিফিং এ কেএনএফকে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সংগঠনটির সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি গঠন করে ওই সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ।
শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির মুখপাত্র হলেন জেলা পরিষদের সদস্য কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যা। জানতে চাইলে গতকাল তিনি ডেইলি ম্যাসেঞ্জারকে বলেন, কেএনএফের সঙ্গে এ পর্যন্ত দুই বার জুম মিটিং হয়েছে। আমাদের প্রস্তাব মেনে চলতি মাসের শেষের দিকে উভয় পক্ষের সরাসরি সাক্ষাতে বৈঠক হবার কথা রয়েছে। আলোচনা চলাকালে কেএনএফ যদি অগ্রহণযোগ্য কোনো ঘটনা ঘটালে সে দায় কেউ নেবে না। আলোচনা শেষের আগে অগ্রহণযোগ্য কোনো ঘটনা কাম্য নয়।
এদিকে আহত যুবকের পেট ও ডান পায়ের রানে গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবান সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার মো. শওকত ইমরান। তিনি ডেইলি ম্যাসেঞ্জারকে বলেন, রোগীর পেটের যখম গুরুতর। এ জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মো. রায়হান কাজেমী সাংবাদিকদের বলেন, আহত ব্যক্তির পায়ে ও পেটে গুলি লাগে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় দেখা দেয়া জনমনে আতঙ্ক কাটাতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন