কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারীদের ডিভাইসগুলিকে কাজে আনতে নিষেধ করার একদিন পরে চীনের সরকার স্থানীয় সরকারী কর্মী এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাগুলিতে আইফোনের নিষেধাজ্ঞা প্রসারিত করেছে বলে জানা গেছে। ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি সংস্থা কর্মীদের আইফোনগুলিকে কাজে না আনতে নির্দেশ দিতে শুরু করেছে এবং নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি তাদের কর্মীদের বলেছে যে ট্রেড সিক্রেট নিয়ে কাজ করে এমন কেউ তাদের আইফোন, অ্যাপল ঘড়ি বা এয়ারপডগুলি আগামী মাস থেকে কাজে আনতে পারবে না।
অ্যাপল পণ্য ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা বেইজিং মার্কিন প্রযুক্তির উপর তার নির্ভরতাকে পিছিয়ে দেওয়ার লক্ষণ বলে মনে করা হয়। রাষ্ট্রীয় মিডিয়া অনুসারে চীনে ১৫০,০০০টিরও বেশি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি রয়েছে, ২০২১ সালে ৫৬ মিলিয়নেরও বেশি লোক নিয়োগ করেছে।
চীনের কেন্দ্রীয় সরকার কমপক্ষে ২০১৮ সাল থেকে সরকারের সাথে যুক্ত কর্মক্ষেত্রে বিদেশী তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তবে এই সপ্তাহে জানা গেছে যে নিয়মগুলি স্মার্টফোনে প্রসারিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের অনেক চীনা কর্মচারীর কাজের জন্য আলাদা ফোন আছে।
চীনের এ সিদ্ধান্তের ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি অ্যাপল। তবে গত দুই দিনে অ্যাপলের স্টক মার্কেট মূল্যায়ন ৬ % কমেছে যা প্রায় ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
গত কয়েক বছর ধরে বাণিজ্য, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে চীনের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরোধ চলছে। তবে অনেকেই বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোয় চীনা প্রযুক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হচ্ছে, তার পাল্টা জবাব হিসেবেই এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চীন। এদিকে চীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিদেশি পণ্য ও প্রযুক্তির পরিবর্তে দেশীয় পণ্যের বাজার বিস্তৃত করতেই এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের তৃতীয় বৃহত্তম বাজার চীন, যা দেশটির গত বছরের মোট আয়ের ১৮% ছিল। এছাড়া, অ্যাপলের বেশিরভাগ পণ্য তার বৃহত্তম সরবরাহকারী ফক্সকন প্রতিষ্ঠান দ্বারা তৈরি করা হয়।
চাইনিজ সোশ্যাল মিডিয়া জানায়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানির কর্মকর্তাদের সেপ্টেম্বরের শেষের মধ্যে অ্যাপল ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ করতে বলা হয়েছে। তবে একজন অ্যাপল ইউজার মজাচ্ছলে লেখেন, তিনি দরিদ্র এবং তার কাছে নতুন ফোন কেনার টাকা নেই। এমন অবস্থায় তাহলে সে কী করবে?
বহুল জনসংখ্যার কারণে আইফোনের একটি বিশাল বাজার রয়েছে চীনে। এ কারণে আইফোন তৈরির বিশাল কারখানাও বসানো হয়েছে দেশটিতে। আগামী সপ্তাহে বাজারে অ্যাপলের নতুন আইফোন আনার কথা রয়েছে। এমন সময়ে চীনের এই সিদ্ধান্ত অ্যাপলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসতে পারে।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন