দুর্যোগকালীন খাদ্য সংকট মোকাবিলায় বরিশালে নির্মিত হয়েছে অত্যাধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার। ৪৮ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার এ সাইলোটি ৩৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হলেও নির্মাণ শেষে এক বছর পার হয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের পাশাপাশি খাদ্যশস্য সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ এ অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বরিশাল নগরীর ৩০ গোডাউন এলাকায় ২০২১ সালে শুরু হয় প্রকল্পের কাজ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয় এ সাইলো নির্মাণ। দিনে ঘণ্টায় ১৭৬ টন চাল প্যাকেটজাত করার ক্ষমতা রয়েছে ১১টি আধুনিক মেশিনে। চাল প্যাকেটজাত করে নৌ ও সড়কপথে সরবরাহের সুযোগ থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে চালের জোগান এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বসানো হলেও দক্ষ জনবল না থাকায় পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। প্রকল্পের ওয়ারেন্টি মেয়াদ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে বলে শঙ্কা করছেন প্রকৌশলীরা।
ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, ভিগান ইঞ্জিনিয়ারিং বেলজিয়াম কামাল আব্দুল রহিম বলেন, এই সাইলোটি শুধু বরিশাল নয়, বরং পুরো দক্ষিণাঞ্চলের জন্য একটি মাইলফলক হতে পারত। এখানে ব্যবহৃত মেশিনগুলো অত্যাধুনিক এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়। দিনে কয়েকশ’ টন চাল প্যাকেটজাত করার ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু প্রকল্প চালু না হওয়ায় এসব যন্ত্রপাতি অচল হয়ে পড়ছে। যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে স্বাভাবিকভাবেই ত্রুটি দেখা দেয়। আমরা উদ্বিগ্ন যে সরকারের শত কোটি টাকার বিনিয়োগ এভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, শরিফুল ইসলাম বলেন, সাইলোর প্রতিটি মেশিন বিশ্বমানের প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহার না হলে এর কার্যক্ষমতা কমে যাবে। আমি মনে করি, যত দ্রুত সম্ভব সরকার চাল সরবরাহ নিশ্চিত করে কার্যক্রম চালু করলে দেশের জন্য বড় একটি সম্পদ হয়ে উঠবে এই সাইলো। নইলে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যাবে।
খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বরিশাল বিভাগে স্থানীয় পদ্ধতিতে ৯০ হাজার টন খাদ্য মজুদের ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন সাইলো চালু হলে এ সক্ষমতা আরও বহুগুণ বাড়বে বলে আশাবাদী কর্মকর্তারা।
বরিশাল সাইলো সুপারিনটেনডেন্ট, রাকেশ বিশ্বাস জানান, আমরা যদি এই আধুনিক সাইলোটি চালু করতে পারি, তাহলে দক্ষিণাঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তায় আমূল পরিবর্তন আসবে। দুর্যোগের সময় দ্রুত খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার যে সুবিধা এখানে আছে, তা অন্য কোথাও নেই। এই সাইলো থেকে বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর ও বরগুনা এই ছয় জেলায় দ্রুত খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে। শুধু তা-ই নয়, খাদ্য মজুদ ও সংরক্ষণেও এটি অনেক বেশি কার্যকর হবে। তাই আমাদের প্রত্যাশা, খুব দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
বরিশালের জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন বলেন, বরিশালের জন্য এই সাইলো একটি বড় অর্জন। নির্মাণ শেষে কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা বাকি থাকায় এখনো চালু করা যায়নি। তবে আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এটি উদ্বোধন করা হবে। চাল সরবরাহ ও দক্ষ জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পুরো সাইলোর কার্যক্রম শুরু হবে। আমরা চাই, যত দ্রুত সম্ভব এটি চালু করে জনসাধারণের জন্য ব্যবহারযোগ্য করা হোক।
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে মেশিন বিকল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে প্রতিদিন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন