ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের সাক্ষাৎ শেয়ার বাজারে ১৫ বছরে লুট হয়েছে ১ লাখ কোটি টাকা, সংসদে রুমিন ফারহানা হজ পালনে কর্মীদের বেতনসহ ১৫ দিনের ছুটি দেবে সৌদি আমরা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না: তারেক রহমান প্রাক্তনের প্রেমে মজেছেন হানিয়া আমির ডেমরায় কালি তৈরির কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ট্রাইব্যুনালে আসতে অস্বীকৃতি, ২ ঘণ্টা পর বাধ্য হলেন সাবেক মন্ত্রী কামরুল চিকিৎসা নিতে গিয়ে হাসপাতালের দেয়াল ধসে ৭ জনের মৃত্যু শিক্ষকদের হেনস্তা করায় ছাত্রদলের ৩ নেতাকে বহিষ্কার, সভাপতির পদ স্থগিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর হত্যা, গুমসহ ১ হাজার ৮৫৫ মামলা

শুধুমাত্র একটি ফোন কল: আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড, হ্যাকিং থেকে কে সুরক্ষিত?

আধুনিক জীবনে স্মার্টফোন আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যের ভাণ্ডার। এই তথ্যের সুরক্ষায় কে এগিয়ে? অ্যাপলের সুরক্ষিত দুর্গ হিসেবে পরিচিত আইফোন,
  • আপলোড সময় : ২৫ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ১২:৬ সময়
  • আপডেট সময় : ২৫ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ১২:৬ সময়
শুধুমাত্র একটি ফোন কল: আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড, হ্যাকিং থেকে কে সুরক্ষিত? ছবি : সংগৃহীত

আধুনিক জীবনে স্মার্টফোন আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যের ভাণ্ডার। এই তথ্যের সুরক্ষায় কে এগিয়ে? অ্যাপলের সুরক্ষিত দুর্গ হিসেবে পরিচিত আইফোন, নাকি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম অ্যান্ড্রয়েড? আমরা অনেকেই মনে করি, আইফোন ব্যবহার করা মানেই হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একটি সাধারণ ভয়েস কল বা এমনকি একটি মিসড কলও আপনার অজান্তে আপনার স্মার্টফোনের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে তুলে দিতে পারে। অবিশ্বাস্য মনে হলেও, অত্যাধুনিক "জিরো-ক্লিক এক্সপ্লয়েট" এই দুঃস্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করেছে। তাহলে প্রশ্ন হলো, এই ধরনের অদৃশ্য আক্রমণে কার ঝুঁকি বেশি? আইফোন নাকি অ্যান্ড্রয়েড? চলুন আজ খুঁজে দেখি।


কীভাবে একটি ফোনকল বিপজ্জনক হয়ে ওঠে? সাধারণত, কোনো লিঙ্কে ক্লিক না করলে বা ক্ষতিকর ফাইল ডাউনলোড না করলে ফোন সুরক্ষিত থাকে বলে আমরা জানি। কিন্তু "জিরো-ক্লিক" পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীর কোনো রকম কার্যক্রম ছাড়াই ডিভাইস হ্যাক পসিবল। এই ভয়ঙ্কর কৌশল আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড উভয় প্ল্যাটফর্মের জন্যই সমান বিপজ্জনক। আক্রমণকারীরা ভয়েস ওভার আইপি অ্যাপ, হোয়াটসঅ্যাপ, আইম্যাসেজ বা অন্যান্য মেসেজিং সার্ভিসের দুর্বলতাকে কাজে লাগায়।


জিরো-ক্লিক আক্রমণ: হ্যাকাররা বিশেষভাবে তৈরি করা একটি ডেটা প্যাকেট (যেমন একটি ছবি, মেসেজ বা কল রিকোয়েস্ট) পাঠায়। ব্যবহারকারী কলটি রিসিভ না করলেও বা মেসেজটি না খুললেও, অ্যাপ বা অপারেটিং সিস্টেমের কোডিংয়ে থাকা ত্রুটি ব্যবহার করে ফোনে গোপনে স্পাইওয়্যার ইনস্টল হয়ে যায়। এনএসও গ্রুপ-এর কুখ্যাত ‘পিগাসাস’ স্পাইওয়্যারটি ঠিক এভাবেই হোয়াটসঅ্যাপ-এর একটি দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড ফোন হ্যাক করেছিল।


বেসব্যান্ড বা সিস্টেম স্তরের দুর্বলতা: ফোনের নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণকারী বেসব্যান্ড প্রসেসরের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েও আক্রমণ চালানো সম্ভব। এটি অত্যন্ত জটিল এবং সাধারণত আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হ্যাকারদের দ্বারাই সম্ভব হয়।


ফিশিং কল (সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং): প্রযুক্তিগত দুর্বলতার পাশাপাশি মানুষকে বোকা বানিয়ে হ্যাক করা একটি পুরোনো কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি। এক্ষেত্রে আক্রমণকারী নিজেকে কোনো বিশ্বস্ত সংস্থার কর্মী পরিচয় দিয়ে ব্যবহারকারীকে ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টল করতে, সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করতে বা বিপজ্জনক কোনো পারমিশন দিতে প্ররোচিত করে। এই ঝুঁকি উভয় প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীদের জন্যই সমান।


আইফোন বনাম অ্যান্ড্রয়েড: ঝুঁকির পাল্লা কার দিকে ভারী?


নিরাপত্তার প্রশ্নে দুটি প্ল্যাটফর্মের গঠনতন্ত্র এবং দর্শন সম্পূর্ণ ভিন্ন, যা তাদের নিজ নিজ শক্তি এবং দুর্বলতা নির্ধারণ করে।


আইফোন (আইওএস): নিয়ন্ত্রিত এবং সুরক্ষিত


শক্তি: অ্যাপলের "ক্লোজড ইকোসিস্টেম" বা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ এর সবচেয়ে বড় শক্তি। অ্যাপল হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার দুটোই নিজে তৈরি করে, ফলে নিরাপত্তার ওপর তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে। অ্যাপ স্টোরে অ্যাপ রিলিজ এর আগে কঠোর পর্যায়ে চেক করা হয় এবং নিয়মিত ও সময়মতো সব ডিভাইসে সিকিউরিটি আপডেট পৌঁছে দেওয়া হয়। এর ফলে ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যারের আক্রমণ তুলনামূলকভাবে কঠিন।


দুর্বলতা: নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও আইওএস দুর্ভেদ্য নয়। পিগাসাস-এর মতো শক্তিশালী স্পাইওয়্যারগুলো বিশেষভাবে আইওএস-এর (জিরো-ডে) দুর্বলতা খুঁজে বের করার জন্য তৈরি হয়। যেহেতু সব আইফোনের গঠন একই, তাই একটি দুর্বলতা খুঁজে পেলে তা দিয়ে লক্ষ লক্ষ ডিভাইসকে টার্গেট করা সম্ভব হয়।


অ্যান্ড্রয়েড: উন্মুক্ত এবং বহুমুখী


শক্তি: অ্যান্ড্রয়েড-এর ওপেন-সোর্স বা উন্মুক্ত প্রকৃতি এটিকে বহুমুখী ও কাস্টমাইজ করার সুযোগ দেয়। গুগল প্লে প্রোটেক্টের মতো ফিচার অ্যাপ স্ক্যান করে এবং ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেয়।


দুর্বলতা: অ্যান্ড্রয়েড-এর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো এর "ফ্র্যাগমেন্টেশন" বা বিভাজন। বিভিন্ন কোম্পানি ( স্যামসাং, শাওমি, ওয়ানপ্লাস ইত্যাদি) তাদের নিজেদের মতো করে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করে, ফলে গুগলের নিরাপত্তা আপডেট সব ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়। এছাড়া, থার্ড-পার্টি অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ইনস্টল করার সুযোগ থাকায় ম্যালওয়্যার সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি থাকে।


সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকি কতটা? জিরো-ক্লিক আক্রমণের মতো জটিল পদ্ধতির জন্য কোটি কোটি টাকা মূল্যের প্রযুক্তি ও গবেষণা প্রয়োজন। এই ধরনের আক্রমণের মূল লক্ষ্যবস্তু হন সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, মানবাধিকার কর্মী বা বড় কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ঝুঁকি হলো ফিশিং কল এবং ম্যালওয়্যারযুক্ত অ্যাপ।


নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন কীভাবে?


আপনি আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড যা-ই ব্যবহার করুন না কেন, কিছু মৌলিক নিরাপত্তা অভ্যাস আপনাকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখতে পারে:


১. সফটওয়্যার আপডেট রাখুন: আপনার ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপগুলো সবসময় আপ-টু-ডেট রাখুন। কোম্পানিগুলো নতুন দুর্বলতা খুঁজে পাওয়ার সাথে সাথেই আপডেটের মাধ্যমে তার সমাধান করে।


২. অপরিচিত কল ও মেসেজ এড়িয়ে চলুন: অচেনা নম্বর থেকে আসা FaceTime, WhatsApp কল বা সন্দেহজনক মেসেজে পাঠানো লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন।


৩. অ্যাপ পারমিশন পর্যালোচনা করুন: অপ্রয়োজনে কোনো অ্যাপকে মাইক্রোফোন, ক্যামেরা বা লোকেশনের অ্যাক্সেস দেবেন না। নিয়মিত আপনার ফোনের সেটিংসে গিয়ে অ্যাপ পারমিশন চেক করুন।


৪. সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল করবেন না: শুধুমাত্র অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর (অ্যাপেল স্টোর বা গুগল প্লে স্টোর) থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন।


৫. লকডাউন মোড ব্যবহার করুন (আইফোন): আপনি যদি মনে করেন যে আপনি উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন, তাহলে আইওএস ১৬ বা তার পরবর্তী সংস্করণে থাকা "লকডাউন মোড" চালু করতে পারেন। এটি ফোনের অনেক ফিচার সীমিত করে দিয়ে জিরো-ক্লিক আক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।


নিরাপত্তার লড়াইয়ে আইফোন তার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের কারণে এগিয়ে থাকলেও কোনো প্ল্যাটফর্মই শতভাগ সুরক্ষিত নয়। পিগাসাস-এর মতো স্পাইওয়্যার প্রমাণ করেছে যে যথেষ্ট সম্পদ এবং দক্ষতা থাকলে যেকোনো দুর্গই ভাঙা সম্ভব। তাই ব্যবহারকারীর সতর্কতা এবং নিয়মিত নিরাপত্তা অভ্যাসই ডিজিটাল জগতে সুরক্ষিত থাকার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। আপনার ফোন নয়, বরং আপনার সচেতনতাই আপনার সুরক্ষার প্রথম এবং শেষ কথা।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
তনু হত্যায় অভিযুক্ত অপর দুই সাবেক সেনা সদস্যকে খুঁজছে পুলিশ

তনু হত্যায় অভিযুক্ত অপর দুই সাবেক সেনা সদস্যকে খুঁজছে পুলিশ