প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার অভিযোগ করেছেন, ব্যাংকগুলো—বিশেষ করে জেপিমোর্গান চেইস ও ব্যাঙ্ক অব আমেরিকা—তাঁর এবং তাঁর সমর্থকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক কারণে অনেক রক্ষণশীল গ্রাহককেও ব্যাংক থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তারা শুধু আমার সঙ্গে না, বরং বহু রক্ষণশীলদের সঙ্গেও স্পষ্টভাবে বৈষম্য করেছে।”
তিনি জানান, নিজের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জেপিমোর্গান তাঁর বহু অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়। “আমার কাছে শত শত মিলিয়ন ডলার ছিল। একাধিক অ্যাকাউন্টে নগদ টাকা জমা ছিল। কিন্তু তারা আমাকে জানায়, ‘স্যার, দুঃখিত, আমরা আপনার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারি না। ২০ দিনের মধ্যে টাকা তুলে নিতে হবে।’”
ট্রাম্প আরও বলেন, এরপর তিনি ব্যাঙ্ক অব আমেরিকায় টাকা রাখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এবং শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ছোট ছোট ব্যাংকে আলাদা আলাদাভাবে টাকা রাখতে বাধ্য হন। “আমি এখানে ১ কোটি, ওখানে ১ কোটি, কখনও ৫০ লাখ, আবার ১ কোটি ২০ লাখ করে বিভিন্ন জায়গায় ভাগ করে রেখেছি,”—বলেছেন তিনি।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন হোয়াইট হাউজ একটি নির্বাহী আদেশ ঘোষণা করতে যাচ্ছে, যার আওতায় ব্যাংকগুলোর "রাজনীতিকরণ ও বেআইনি ডিব্যাংকিং" (debanking) চর্চা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হবে। রয়টার্সের হাতে আসা খসড়া অনুযায়ী, এই আদেশের ফলে ব্যাংকগুলোকে হয়তো তাঁদের নীতিমালা নতুন করে পর্যালোচনা করতে হবে।
জেপিমোর্গান এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা রাজনৈতিক কারণে কোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করি না এবং আমরা ট্রাম্পের সঙ্গে একমত যে—নিয়ন্ত্রক কাঠামোয় পরিবর্তন আনা অত্যন্ত প্রয়োজন।” তারা হোয়াইট হাউজের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
ব্যাঙ্ক অব আমেরিকাও ট্রাম্পের নির্দিষ্ট অভিযোগের জবাব না দিলেও জানায়, তারা নীতিমালাগুলো স্পষ্ট করতে প্রশাসনের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানায়।
সূত্রমতে, বাইডেন প্রশাসনের সময় ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকদের নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ‘সুনামের ঝুঁকি’ (reputational risk) বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছিল, যা ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে জুনে ফেডারেল রিজার্ভ ঘোষণা দেয়, তারা ব্যাংক তদারকির সময় আর ‘সুনামের ঝুঁকি’ বিবেচনায় নেবে না।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন নির্বাহী আদেশে ব্যাংকগুলো কনজারভেটিভ গ্রাহকদের প্রত্যাখ্যান করলে তা সমতা আইনের (Equal Credit Opportunity Act), প্রতিযোগিতা আইন এবং ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করছে কি না, তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে।
ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ডিব্যাংকিং সংক্রান্ত সমস্যা মূলত কঠোর নিয়ন্ত্রক নীতিমালার ফল, এবং তাদের অনেক সময়ই অতিরিক্ত ঝুঁকি এড়াতে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
ওয়েলস ফারগোর বিশ্লেষক মাইক মায়ো বলেন, “হোয়াইট হাউজ যা করছে, তা হলো—ব্যাংকগুলোকে বলছে যেন তারা নিয়মের আড়ালে লুকিয়ে কাউকে ব্যাংকিং সেবা থেকে বঞ্চিত না করে।”
ব্যাংক অব আমেরিকা ও অন্যান্য ব্যাংক আশা করছে, প্রশাসন মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত কিছু পুরনো ও জটিল নিয়মকানুন শিথিল করবে, যাতে ব্যাংক পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও সহজতা আসে।
সূত্র: সিএনবিসি, রয়টার্স, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন