মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন। দেশের কর্মসংস্থান বাজারে দুর্বলতার সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশের পর তিনি ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য জালিয়াতির অভিযোগ আনেন, যদিও এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
একই দিনে, ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ডের গভর্নর অ্যাড্রিয়ানা কুগলার হঠাৎ করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন, যা ট্রাম্পকে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নিজের পছন্দের ব্যক্তি নিয়োগের সুযোগ এনে দিয়েছে।
এই দুই ঘটনায় শেয়ারবাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। শুক্রবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১.৬% হ্রাস পায়, যা গত দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন।
শুক্রবার শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো জানায়, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৭৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আরও অবাক করা বিষয়, মে ও জুন মাসের তথ্য সংশোধন করে জানানো হয়, পূর্বের হিসাবের চেয়ে ২ লাখ ৫৮ হাজার কম চাকরি সৃষ্টি হয়েছিল।
ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, “আমাদের সঠিক চাকরির সংখ্যা দরকার। আমি আমার টিমকে নির্দেশ দিয়েছি, এই বাইডেনের রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবিলম্বে বরখাস্ত করতে। তার স্থানে আরও যোগ্য ও দক্ষ কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে।”
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা এরিকা ম্যাকএন্টারফারকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিয়োগ করেছিলেন। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্যের বড় ধরনের সংশোধন এবং জরিপে কম সাড়া পাওয়া নিয়ে প্রশাসন অসন্তুষ্ট। কোভিড-১৯ মহামারির সময় শুরু হওয়া এই সমস্যা এখনও সমাধান হয়নি।
BLS-এর তথ্য অনুযায়ী, চাকরি জরিপে অংশগ্রহণের হার ২০২০ সালের অক্টোবরের ৮০.৩% থেকে এ বছরের জুলাইয়ে নেমে এসেছে ৬৭.১%-এ।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্যের মান নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। গত মাসে রয়টার্সের এক জরিপে ১০০ জন নীতি বিশেষজ্ঞের মধ্যে ৮৯ জনই জানিয়েছেন, তারা তথ্যের মান নিয়ে কমবেশি চিন্তিত এবং মনে করছেন, সমস্যা সমাধানে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
রুজভেল্ট ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ মাইকেল ম্যাডোভিৎজ বলেন, “অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা আত্মঘাতী পদক্ষেপ। তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা হারানো সহজ, পুনরুদ্ধার করা কঠিন—এবং এ বিশ্বাসযোগ্যতাই যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অর্থনীতির ভিত্তি।”
এদিকে কুগলারের পদত্যাগের ফলে ট্রাম্প ফেডের গভর্নর পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যার মেয়াদ চলবে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। পরবর্তীতে তাকে পূর্ণ ১৪ বছরের মেয়াদে পুনর্নিয়োগ দেওয়া সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এমন একজনকে মনোনীত করতে পারেন যিনি ভবিষ্যতে ফেড চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেবেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হাসেট, ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট, সাবেক ফেড গভর্নর কেভিন ওয়ার্শ এবং বর্তমান ফেড গভর্নর ক্রিস ওয়ালার।
ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে সুদের হার কমাতে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য ট্রাম্প বহুবার সমালোচনা করেছেন এবং বরখাস্তের হুমকি দিয়েছেন। পাওয়েলের মেয়াদ শেষ হবে আগামী মে মাসে, যদিও তিনি চাইলে ২০২৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বোর্ডে থাকতে পারেন।
বিশ্লেষক ডেরেক ট্যাং বলেন, “কুগলার রাজনৈতিক কারণে পদত্যাগ করছেন বলে আমি মনে করি না, তবে এর ফলে ট্রাম্পের হাতে এখন সুযোগ এসেছে ফেডে নিজের প্রভাব বাড়ানোর।”
সূত্র: রয়টার্স
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন