বাহামা ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্সের মধ্যে হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রকেট অবতরণ চুক্তি বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গত বছর ফ্যালকন ৯ রকেট বুস্টার বাহামার জলসীমায় অবতরণের অনুমতি দিতে গিয়ে স্পেসএক্স দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য বিনামূল্যে স্টারলিঙ্ক ইন্টারনেট টার্মিনাল দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, জানিয়েছেন আলোচনার সঙ্গে যুক্ত তিনজন ব্যক্তি।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাহামার উপ-প্রধানমন্ত্রী চেস্টার কুপার এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। সূত্র জানায়, তিনি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সাথে পরামর্শ করেননি। যদিও চুক্তির মাধ্যমে কোনো আইন ভঙ্গ হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে এটি সরকারের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
চুক্তি অনুযায়ী, ফ্যালকন ৯ রকেট বুস্টার বাহামার এক্সুমা উপকূলের কাছে অবতরণ করে। এর পরেই মার্চে স্পেসএক্সের স্টারশিপ রকেট টেক্সাস থেকে উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্ফোরিত হয়, যার ধ্বংসাবশেষ বাহামার কয়েকটি দ্বীপে গিয়ে পড়ে। যদিও বিষাক্ত পদার্থ শনাক্ত হয়নি এবং পরিবেশগত প্রভাব সামান্য ছিল বলে জানানো হয়, তারপরও বিষয়টি নিয়ে সরকারের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
চুক্তির অংশ হিসেবে স্পেসএক্স বাহামার ইউনিভার্সিটি অব বাহামাকে ১০ লাখ ডলার অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং কোয়ার্টারলি সেমিনার আয়োজনের কথা বলে। প্রতি রকেট অবতরণে স্পেসএক্সকে বাহামা সরকারকে ১ লাখ ডলার ফি দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে এপ্রিলের পর বাহামা সরকার রকেট অবতরণের চুক্তি স্থগিত করে দেয় এবং জানায়, স্টারশিপ বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন অবতরণ অনুমতি দেওয়া হবে না। সরকারের একজন কর্মকর্তা জানান, এই সিদ্ধান্তের পেছনে পরিবেশগত উদ্বেগ ছাড়াও সরকারের ভেতরের ক্ষোভ একটি বড় কারণ ছিল।
বাহামা সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী পরিচালক অ্যারানা পাইফ্রম জানান, অনেকেই স্পেসএক্সের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। “আমার মহাকাশ গবেষণার প্রতি বিরোধিতা নেই, কিন্তু আমার দেশের আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে,” তিনি বলেন। “স্টারশিপ বিস্ফোরণ আমাদের আরও সচেতন করেছে।”
এদিকে, মার্চ ৬ তারিখে উৎক্ষেপণের ৯.৫ মিনিট পর স্টারশিপ আবারো বিস্ফোরিত হয়, যা ছিল বছরের তৃতীয় ব্যর্থ উৎক্ষেপণ। এর আগে জানুয়ারিতেও একটি স্টারশিপ রকেট মাঝ আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে টার্কস অ্যান্ড কেইকোস দ্বীপপুঞ্জে ধ্বংসাবশেষ ফেলেছিল।
স্পেসএক্সের কর্মীরা পরে হেলিকপ্টার ও দ্রুতগামী নৌকা দিয়ে দ্বীপগুলোতে পৌঁছে সমুদ্রপৃষ্ঠ ও তলদেশে ধ্বংসাবশেষ অনুসন্ধান করে। উদ্ধার করা অংশগুলো একটি বড় জাহাজে তোলা হয়।
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংস্থা Save The Bays-এর চেয়ারম্যান জো ডারভিল এই গোপন চুক্তি ও বিস্ফোরণজনিত পরিবেশ দূষণের জন্য স্পেসএক্স এবং বাহামা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের চুক্তি জনগণের মতামত ছাড়া গোপনে করা উচিত হয়নি।”
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্পেসএক্সের জমা দেওয়া পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কিত রিপোর্ট পর্যালোচনার কাজ চলছে এবং নতুনভাবে স্পেস রিএন্ট্রি নীতিমালা সংশোধন করে ভবিষ্যতের অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করা হবে।
এদিকে স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যেই পরবর্তী স্টারশিপ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন