তাইওয়ানে বিরোধী কুওমিনতাং (KMT) দলের ২৪ জন সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করার উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। শনিবার অনুষ্ঠিত দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রিকল (অবিশ্বাস) নির্বাচনে সবগুলো ভোটই প্রত্যাখ্যাত হয়, যা প্রেসিডেন্ট লাই ছিং-তের ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (DPP) জন্য বড় এক রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, KMT দলের কাউকেই বহিষ্কার করা যায়নি। নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে এই প্রচারাভিযান শুরু হয়েছিল, যা প্রেসিডেন্ট লাই-এর দলকে আবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা ভেস্তে গেছে।
তাইওয়ান সরকার জানিয়েছে, এই নির্বাচন চীনের "অভূতপূর্ব" হস্তক্ষেপের মুখে পড়েছে। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে, যদিও তাইওয়ান গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত একটি স্বাধীন দ্বীপ এবং তারা এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।
তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কারা সংসদে থাকবে কিংবা বাদ পড়বে—এই সিদ্ধান্ত একমাত্র তাইওয়ানের জনগণের।
DPP-এর সংসদীয় দলীয় চিফ হুইপ উ স্যু-ইয়াও বলেন, “আমরা ভোটারদের সিদ্ধান্তকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করছি। তবে এই ফলাফল আমাদের ‘কমিউনিস্ট বিরোধী এবং তাইওয়ানপন্থী’ অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।”
তিনি বলেন, “এইবার আমরা দেখেছি, চীন নানাভাবে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছে—মিথ্যা প্রচারণা চালানো, সামরিক চাপ বাড়ানো—সব মিলিয়ে আমাদের আরও সজাগ থাকতে হবে।”
KMT চেয়ারম্যান এরিক চু এই ফলাফলের জন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রেসিডেন্ট লাই-এর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “নির্বাচনে হেরে গিয়ে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে রিকল ভোট চাওয়াটা গণতন্ত্র ধ্বংসের শামিল। জনগণ স্থিতিশীলতা চায়, সংঘাত নয়।”
KMT দল লাই ছিং-তের সরকারের বিরুদ্ধে ‘একদলীয় শাসন’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ও সংসদে রণনীতি চালানোর অভিযোগ এনেছে। তারা বলছে, বেইজিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ও প্রতিরক্ষা ব্যয়ের পর্যবেক্ষণ করাই তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
আগামী ২৩ আগস্ট KMT-এর আরও সাতজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে রিকল ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রিকল প্রচার প্রচণ্ড রাজনৈতিক মেরুকরণ ও চীনের প্রভাব মোকাবিলার ক্ষেত্রে তাইওয়ানের গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন