গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইসুস। তিনি বলেন, "এটিকে যদি গণদুর্ভিক্ষ না বলি, তাহলে আর কী বলা যায়? এটা পুরোপুরি মানবসৃষ্ট এবং সেটা খুবই স্পষ্ট। এর মূল কারণ অবরোধ।"
বুধবার জেনেভা থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে টেড্রোস বলেন, গাজায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের ঘাটতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত প্রায় ৮০ দিন কোনো ত্রাণ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। যদিও মে মাসে অবরোধ শিথিল করা হয়, তবে তা এখনও যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এর মধ্যেই গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত রাতে অনাহারে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অনাহারে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১১ জনে। এর মধ্যে অধিকাংশই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মারা গেছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২১ শিশুর অপুষ্টিজনিত মৃত্যু হয়েছে, তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা। গর্ভবতী নারীদের মধ্যেও অপুষ্টির হার ভয়াবহ। জুলাই মাসেই ৫,১০০ শিশুকে অপুষ্টি চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ৮০০ জন চরম অপুষ্টিতে ভুগছে।
সংস্থার ফিলিস্তিন অঞ্চলের প্রতিনিধি রিক পেপারকরন বলেন, “গাজায় অপুষ্টি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো রোগীতে উপচে পড়ছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জামের মারাত্মক অভাব রয়েছে।”
অন্যদিকে, ইসরায়েল বলছে, তারা গাজায় পর্যাপ্ত খাদ্য প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে, তবে এই সহায়তা যেন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এসব নিয়ন্ত্রণের কারণে গাজাবাসীদের হাতে কার্যত প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না।
জাতিসংঘের শতাধিক সহায়তা সংস্থাও গাজার এই দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতিকে ‘আমানবিক বিপর্যয়’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন