ইরান, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিনিধিরা আসন্ন শুক্রবার তুরস্কের ইস্তানবুলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক আলোচনায় অংশ নিতে যাচ্ছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাঈ জানিয়েছেন, এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে।
এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন ইউরোপের তিনটি দেশ—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি (যারা E3 হিসেবে পরিচিত)—সতর্ক করে দিয়েছে যে, পারমাণবিক আলোচনার অগ্রগতি না হলে বা আলোচনায় ফল না এলে আগস্টের শেষ নাগাদ ইরানের ওপর পুনরায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
২০১৫ সালে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে একটি পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার আওতায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন, যা পরবর্তীতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
গত মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যাতে শীর্ষস্থানীয় ইরানি সেনা কর্মকর্তা, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং বহু বেসামরিক লোক নিহত হন। ইরান এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। মার্কিন বাহিনী অন্তত তিনটি বড় পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়ে তা “সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস” করার দাবি করে। পরে, ২৪ জুন এক অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়।
ইইউ ও E3 দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সম্প্রতি ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনায় অংশ নেন। এ আলোচনার মধ্য দিয়ে আবারো কূটনৈতিক সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে ইরান সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “যদি ইউরোপ ও E3 আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চায়, তাহলে তাদের উচিত হুমকি ও চাপ প্রয়োগের পুরনো কৌশল বাদ দেওয়া।” আরাগচি আরও বলেন, “তাদের তথাকথিত ‘স্ন্যাপব্যাক’ নিষেধাজ্ঞার নৈতিক কিংবা আইনগত ভিত্তি নেই।”
এদিকে, রোববার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হঠাৎ করেই ক্রেমলিনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি লারিজানির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে আলোচনার বিষয় উঠে আসে।
রাশিয়া ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিত্র হলেও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পর তেমন শক্ত অবস্থান নেয়নি।
বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই আলোচনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পারমাণবিক সমঝোতার ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভর করছে এই আলোচনার ফলাফলের ওপর।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন