যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তোর সঙ্গে আলোচনার পর এই চুক্তি হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তির আওতায় ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কোনো শুল্ক আরোপ করবে না, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানিপণ্যে ১৯% শুল্ক আরোপ করবে। তিনি আরও জানান, ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি, ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য এবং ৫০টি বোয়িং জেট (যার মধ্যে অনেকগুলো ৭৭৭ মডেলের) কিনতে সম্মত হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। দেশটির সরকার চুক্তিটি চূড়ান্ত করেছে কি না—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, “ইন্দোনেশিয়া উচ্চমানের কপার (তামা) রপ্তানির জন্য পরিচিত, যা আমরা ব্যবহার করব।” এর ফলে ধারণা করা হচ্ছে, কপার আমদানির ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপে ছাড় দেওয়া হতে পারে। ট্রাম্প এর আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ১ আগস্ট থেকে কপার আমদানির ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ২ কোটি ডলারের কপার রপ্তানি করেছে, যেখানে চিলি ও কানাডা যথাক্রমে ৬ বিলিয়ন ও ৪ বিলিয়ন ডলারের কপার রপ্তানি করেছে।
মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক সিএনবিসিকে বলেন, “আমরা সেখানে শুল্ক নিচ্ছি না, কিন্তু তারা এখানে দিচ্ছে — আমরা এই অসমতা আমাদের দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছি।”
ট্রাম্প আরও জানান, ভারতও একই ধরনের একটি চুক্তির পথে রয়েছে। এপ্রিল মাসে ভারতীয় পণ্যের ওপর সাময়িকভাবে ৩২% শুল্ক আরোপ করার পর সেই হার তিন মাসের জন্য কমিয়ে ১০% করা হয়েছিল, যা ১ আগস্ট শেষ হবে।
ট্রাম্প বলেন, “ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে চমৎকার একটি চুক্তি হয়েছে। আমি সরাসরি তাদের সম্মানিত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেছি। বিস্তারিত আসছে!”
গত তিন মাসে এটি ট্রাম্পের চতুর্থ বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা। এর আগে তিনি ভিয়েতনামের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পাদনের দাবি করেছিলেন, যদিও প্রশাসন এখনো সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের অস্থির বাণিজ্যনীতি অনেক ব্যবসার জন্য অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। হঠাৎ শুল্ক আরোপের হুমকিতে আমদানিকারকেরা বিপাকে পড়ছেন, এবং উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের পরামর্শ বাস্তবে বাস্তবায়ন করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে খরচ বাড়ছে, যার বোঝা বহন করতে হচ্ছে মার্কিন ভোক্তাদের।
বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ২৩তম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। গত বছর দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে ২৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার মধ্যে পোশাক ও জুতা শীর্ষে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় ১০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার মধ্যে তেলবীজ, শস্য ও জ্বালানি শীর্ষে রয়েছে।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন