পূর্ণ সদস্য বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে সহযোগী সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাত। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ৭ উইকেটের দুর্দান্ত জয়ে নিজেদের প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল তারা, যা কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে তাদের প্রথম এমন সাফল্য। এই পরাজয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক নতুন ও অপ্রত্যাশিত অধ্যায়ের সূচনা করল, যেখানে লিটন দাস পূর্ণকালীন অধিনায়ক হিসেবে তার প্রথম সিরিজেই এমন বিব্রতকর হারের সাক্ষী হলেন।
শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক আরব আমিরাত। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। একপর্যায়ে ৭১ রানে ৭ উইকেট এবং ৮৪ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে একশর নিচে অলআউট হওয়ার আশঙ্কায় পড়েছিল টাইগাররা। তবে, জাকের আলি অনিকের ৩৪ বলে ৪১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস এবং শেষ দিকে হাসান মাহমুদ (১৫ বলে ২৬*) ও শরিফুল ইসলামের (৭ বলে ১৬*) গুরুত্বপূর্ণ অবদানে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৬২ রানের লড়াকু স্কোর গড়তে সক্ষম হয়। আমিরাতের পক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে হায়দার আলী ৪ ওভারে মাত্র ৭ রান খরচায় ৩ উইকেট শিকার করেন। মতিউল্লাহ খান ও সগির খান ২টি করে উইকেট পান।
১৬৩ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সংযুক্ত আরব আমিরাত শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করে। যদিও দ্বিতীয় ওভারেই অধিনায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম (৯) শরীফুলের বলে আউট হন, কিন্তু এরপর আলিশান শারাফু ও আসিফ খান দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকেন। আলিশান শারাফু ৪৭ বলে ৬৮ রান করে অপরাজিত থাকেন এবং আসিফ খান ২৬ বলে ৪১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন। এই দুই ব্যাটার চতুর্থ উইকেটে ৫২ বলে ৯১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে সহজ জয় এনে দেন। আমিরাত ৫ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় এবং সিরিজ জয় নিশ্চিত করে।
এই পুরো সিরিজ বাংলাদেশের জন্য এক দুঃস্বপ্নের মতো কেটেছে। প্রথম ম্যাচে কষ্টার্জিত জয় পেলেও, দ্বিতীয় ম্যাচেই ১ বল হাতে রেখে ২ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয়ে আরব আমিরাত সিরিজে সমতা আনে। শেষ ম্যাচেও জয় তুলে নিয়ে তারা শুধু সিরিজই জিতল না, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিল। এই অপ্রত্যাশিত সিরিজ হার বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে গভীর হতাশার সৃষ্টি করেছে।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন