সম্প্রতি কাশ্মীরে এক সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জনের প্রাণহানির পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ভারতের পাল্টা সামরিক অভিযানে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়, যার ফলে উভয় দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ মে সন্ধ্যা ৫টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তির ঘোষণা দেন এবং উভয় দেশকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান ।
যদিও যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়, তবে সীমান্ত এলাকায় রাতারাতি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। উভয় দেশই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করেছে ।
ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে এবং সতর্ক করেছে যে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে ।
ভারত গত বুধবার পাকিস্তানে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামের অভিযান শুরু করার পর ৬০ জনের বেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভারতের দাবি, পাকিস্তান ও পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে অবস্থিত ‘সন্ত্রাসী ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে এসব ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে পাকিস্তানের অংশে হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসলামাবাদ। নিয়ন্ত্রণরেখা হলো ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্তরেখা, যা বিরোধপূর্ণ কাশ্মীর অঞ্চলকে ভাগ করে রেখেছে।
কাশ্মীর অঞ্চলে সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। যুদ্ধবিরতির পরেও সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে ।
যদিও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকে স্বাগত জানিয়েছে, ভারত এই বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে বলেছে যে, যুদ্ধবিরতি মূলত দুই দেশের সামরিক কমান্ডারদের সরাসরি যোগাযোগের ফল। ভারতের লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই জানান, ১০ মে পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের সঙ্গে ফোনালাপের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ।
বর্তমানে উভয় দেশের সামরিক কর্মকর্তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ শান্তি প্রক্রিয়া নির্ভর করবে এই আলোচনার ফলাফলের ওপর। কাশ্মীর ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। এই সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া আবারও প্রমাণ করেছে যে, এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন