নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা দুইজন নিখোঁজের পরেরদিন সন্ধান মিলেছে থানায়। এমনটা অভিযোগ উঠেছে ডিমলা থানার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ খড়িবাড়ী মন্সেপাড়া গ্রামের তাছিন ইসলাম ও কলোনী পাড়া গ্রামের ফজল মিয়া ওরফে রানা নামের এক ব্যক্তির পরিবারের।
সরেজমিনে পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় দক্ষিণ খড়িবাড়ী গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে ফজল মিয়া (রানা) ও রফিকুল ইসলামের ছেলে তাসিন ইসলাম প্রতিনিয়ত দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে। কিন্তু গত ১৭ জুলাই সোমবার সারারাত তাসিনে ও রানার পরিবারের সকল সদস্য তাদের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু তারা বাড়ি আসেনি। পরিবারের সদস্যরা ১৮ জুলাই মঙ্গলবার সকালে সন্ধানে বেরিয়ে জানতে পারেন তারা পুলিশি হেফাজতে রয়েছে ডিমলা থানায়।
এ ঘটনায় আটক হয়েছেন, ফজল মিয়া (রানা) (৩৫), আব্দুল করিম (৪০), আনিছুর রহমান (৩৩), হাবিব (৩০), ফরহাদ আলী (৩৫), কামিনুর রহমান (৩৪), রবিউল ইসলাম (৩০), তাসিন (২৩), নাসিদুল ইসলাম (৩০), হাবিবুর রহমান হাবু (৩০), আবু জাহিদ (৩৮)।
আটকের বিষয়ে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লাইছুর রহমান জানান, ১৭ জুলাই সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার পরে ভোট কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে কিছু দূর এসে ফেরদৌস মিয়া ও তার সমর্থকরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আর বিজিবি'র গাড়ি বহর অবরুদ্ধ করেন এবং পিছন থেকে ইট পাটকেল ছুড়ে বিজিবি'র দুইটি গাড়ি ভাংচুর করেন। ভাংচুরের ঘটনায় বিজিবি নায়েব সুবাদার নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে ২১ জন নামীয় ও ৩ থেকে ৪শতাধিক লোকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তাদেরকে আটক করেন এবং আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
এ বিষয়ে তাসিন ইসলামের বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, শুটিবাড়ী বাজারে আমার তুষার পান স্টোর নামে একটা পানের দোকান করি। দোকান রাত ২-৩ টা পর্যন্ত খোলা থাকে সোমবারেও দোকান দুইটার দিকে বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে টেপাখড়িবাড়ী পরিষদ বাজার এলাকা থেকে তাকে পুলিশ তুলে নিয়ে যান। রাতে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাওয়া না গেলে বিভিন্ন যায়গায় খোঁজখবর নেওয়ার পরে মঙ্গলবার সকালে জানতে পারি পরিষদে মারামারির ঘটনায় নাকি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু মারামারির সময়ে সে আমার দোকানে বসে ছিল। দোকান করে আমাদের পরিবারের ১০জনের সংসার চলে কিন্তু সেই চিন্তাই আমি দুই দিন ধরে দোকান খুলতে পারছি না। আমার ছেলে নির্দোষ তাকে মুক্তি দেওয়া হোক এটা আমার দাবি।
কথা হয় আরেক জন ভুক্তোভুগী ফজল মিয়া ওরফে রানা মিয়ার মা ফাতেমা বেগমের সাথে। তিনি জানান, আমার পোলা রানা সে দোকান পাট বন্ধ কইরা বাড়ি আইবার নইছিল কিন্তু পুলিশরা নাহি তারে রাস্তা থাইকা তুইলা নিয়া গেছে। কিন্তু আমার পোলা তো সারাটা দিনে দোকানে ছিল হেয় তো কিছু জানতো না তারপরও আমার পোলাটারে নিয়া গেল। আমরা এহন কি করুম, আমার পোলডারে আইনা দেও গো বাজান। হের আয়ে আমাগো পরিবারটা চলে, আমার বাজান নির্দোষ।
উল্লেখ্য যে, গত সোমবার (১৭ জুলাই) ভোট গণনা শেষে সন্ধ্যা ৭টায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টেপাখড়িবাড়ি পন্ডিতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। তবে ফলাফলে অসন্তোষ হয়ে সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থী ফেরদৌস মিয়ার সমর্থকরা বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা করেন। এ সময় ফেরদৌস সমর্থকরা গাড়িও ভাঙচুর করেন। পরে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন