গত ২৬ মে পটুয়াখালী উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্নিঝড় রিমাল। টানা ১৪ ঘন্টার ঝড়ো হাওয়া ও জলোচ্ছ্বাসে অতিতের সব রেকর্ড ভেঙে প্লাবিত হয় জেলার ৮ টি উপকূলীয় এলাকা। এতে ব্যাপত ক্ষতির সম্মূখীন হয় পটুয়াখালী জেলাবাসী। গত দেড় দশকে প্রায় ১০ টির বেশি প্রলয়ংকারী বন্যা দেখেছে পটুয়াখালীবাসী।
ঘূর্নিঝড় আয়লা থেকে শুরু করে রিমালের প্রভাবে সৃষ্ঠ জলোচ্ছাসে বেড়িবাধঁ, রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাপক বিধ্বস্ত হয়। যা অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব পরে।
এছাড়াও প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে একেবারে সর্বশান্ত হয়ে যায় এ উপকূলের মানুষ। এসব ক্ষতির কারণ বলে মনে করা হয় অপরিকল্পিত ও যেন তেনো ভাবে বানানো বেড়িবাধঁ। যার খেশারত দিতে হয় উপকূলের বাসিন্দাদের।
এ ক্ষতি কাটিয়ে ঘুড়ে দাড়াতে না পেরে এ অঞ্চলের মানুষ হয় সর্বশান্ত। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ মে ঘূর্নিঝড় কবলিত এলাকা পরিদর্শন করতে এসে টেকসই বেড়িবাধঁ নির্মাণ করার আশ্বাস দেয়। সরকারের সাহায্য পেলেও পরিবার নিয়ে ঘুড়ে দাড়াাঁতে পারে না এসব উপকূলের বাসিন্দারা।
সুত্রমতে এ বছর ঘূর্নিঝড় রিমালের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় ৮৪,৫০০ টি পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় ৩,৩৮,০০০ মানুষ।
সরকারি-বেসরকারি তথ্যমতে ঘূর্নিঝড় রিমালে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এলজিডির আওতায় প্রায় ৩৬৫ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয় ও ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের আওতায় গ্রামীন অবকাঠামো নির্মাণ এবং সংস্কারের প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।
এছাড়াও প্রায় ২৭ কোটি টাকার ফষল নষ্ট হয়, ৫০ কোটি টাকার মৎস সম্পদ, ৮ কোটি টাকার গবাদি পশুসহ গভীর নলকূপ ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ক্ষতি হয়।
ভারী জলোচ্ছাসে পটুয়াখালী ও কলাপাড়া উপকূলের প্রায় ২৩.৬৬ কিলোমিটার বেড়িবাধঁ বিধ্বস্ত হয়, যা সংস্কার যোগ্য টাকার পরিমাণে দাড়ায় প্রায় ২০ কোটি টাকার মতো। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬৯১ কোটি টাকা।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ৩৫০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা, শুকনো খাবার ৮০০ প্যাকেট, শিশু খাদ্য ৬ লক্ষ টাকার, গো-খাদ্য ৬ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফ হোসেন এবং কলাপাড়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রফিক হোসেন বলেন, পটুয়াখালী ও খলাপাড়ায় পাউবোর প্রায় ২৩ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ক্ষতিগ্রস্থ এসব বেড়িবাধঁ নির্মাণ এবং সংস্কারের জন্য ২০ কোটি টাকার চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
তারা আরও জানান, টেকসই বোড়িবাধঁ নির্মাণ করতে হলে চলমান ডিজাইন পরিবর্তন এবং মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন ও বরাদ্দের বিষয় রয়েছে। তাছাড়া জমি অধিগ্রহনের বিষয়ও এর সাথে জড়িত।
এছাড়া বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় অঞ্চলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে উপযুক্ত মাটি না পাওয়ায় অধিকাংশ এলাকার বালু মাটি ব্যবহার করতে হয়। যে কারনে স্বাভাবিক জোয়ারের বেড়িবাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। লবনাক্ত এলাকা হওয়ায় জলকপাট নষ্ট হয়ে প্লাবিত হয় লোকালয়।
বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন