বাবা হাবিবুল ইসলামের পরিচালনায় ‘যাপিত জীবন’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। তবে এই সিনেমায় কাজের জন্য কোনো পারিশ্রমিক নেননি তিনি। সম্প্রতি বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর ভাষ্য, সিনেমাটিকে নিজের কাজ হিসেবে দেখেছেন, তাই পারিশ্রমিক নিয়ে ভাবেননি। ভাবনা বলেন, ‘প্রথমবার বাবার পরিচালনায় কাজ করেছি। সিনেমাটিকে নিজের বলে মনে হয়েছে। এখানে পারিশ্রমিক নেওয়ার বিষয়টি কীভাবে আসে? বাবা মানেই তো আমার সবকিছু। নিজের কাজের জন্য কেউ কি পারিশ্রমিক নেয়? আমিও এই সিনেমায় কোনো পারিশ্রমিক নিইনি। গল্পটি আমার ভীষণ পছন্দের ছিল। এটাকেই নিজের উপহার হিসেবে দেখেছি। সিনেমাটিতে অভিনয় করতে পারাটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
অভিনেত্রী জানান, শুধু পারিবারিক সম্পর্কের কারণে নয়, বাবার পরিচালনায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতাটিও তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ‘যাপিত জীবন’-এর শুটিংয়ে বাবা পরিচালকের ভূমিকায় ছিলেন, আর মেয়ে কাজ করেছেন অভিনয়শিল্পী হিসেবে। এই ভিন্ন অভিজ্ঞতার মূল্য তাঁর কাছে অর্থের চেয়ে অনেক বেশি। ভাবনার মতে, সিনেমাটি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকার মতো একটি কাজ। কারণ, এর কাহিনির পটভূমি ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। দেশভাগের প্রেক্ষাপটে নির্মিত কোনো সিনেমায় এবারই প্রথম অভিনয় করেছেন তিনি। ভাবনা বলেন, ‘দেশভাগ ও ভাষা আন্দোলন আমাদের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই চরিত্রটিতে অভিনয়ের সময় আমাকে অনেক দায়িত্বশীল হতে হয়েছে। ২০২৬ সালে এসে বাবা বেশ সাহসী একটি কাজ করেছেন। কোনো চরিত্রের জন্য আমাকে এতটা পরিশ্রম করতে হয়েছে বলে মনে পড়ে না। সেই সময়ের মানুষের হাঁটাচলা, চোখের অভিব্যক্তি ও কথা বলার ধরন—সবকিছু আয়ত্ত করতে দীর্ঘদিন অনুশীলন করতে হয়েছে।’
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন হাবিবুল ইসলাম। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ‘যাপিত জীবন’। এ সিনেমায় ভাবনাকে দেখা যাবে আনজুম চরিত্রে। চরিত্রটির জন্য তাঁকে মিছিল ও সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়ার দৃশ্যেও অভিনয় করতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ভাবনা বলেন, ‘আনজুম চরিত্রে আমাকে আন্দোলনে অংশ নিতে হয়েছে। রাজনীতি করা, মিছিল করা—এসবই চরিত্রটির অংশ। ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে আনজুমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।’
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন