যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এবং তাঁর প্রশাসনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে আজ মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই ভোটে মার্কিনিরা শুধু নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন না, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের গত দুই বছরের কর্মকাণ্ড নিয়েও নিজেদের মতামত জানাবেন। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত একাধিক জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে রিপাবলিকান শিবিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
বিশেষ করে আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, ওহাইও ও টেক্সাস—এই পাঁচটি রাজ্যের সিনেট নির্বাচন ঘিরে চলছে আলোচনা। দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এসব রাজ্যের কয়েকটিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা ৫০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। বিপরীতে রিপাবলিকান ড্যান সুলিভানের সমর্থন ৪৩ শতাংশ।
ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউনের সমর্থন ৪৯ শতাংশ, আর রিপাবলিকান জন হাস্টেডের ৪৬ শতাংশ। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো ৫১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। সেখানে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের সমর্থন ৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে আইওয়ায় রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসন সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে। কানসাসে দুই দলের প্রার্থীর সমর্থন প্রায় সমান।
জরিপে আরও দেখা গেছে, পাঁচ রাজ্যের ৫৭ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দায়িত্ব পালনে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অর্থনীতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের কাছে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। জাতীয় পর্যায়ের আরেকটি জরিপেও ডেমোক্র্যাটদের প্রতি বেশি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি, আর ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়াতে হবে। তবে জরিপে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের ফল কী হবে, তা নিশ্চিত নয়।
অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসন নিয়েও দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক, ওহাইও ও টেক্সাসের কয়েকটি আসনের ফল সংসদের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই নির্বাচনে রিপাবলিকানরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে আগামী দুই বছর ট্রাম্প প্রশাসন তুলনামূলক কম রাজনৈতিক বাধার মুখে কাজ করতে পারবে। আর ডেমোক্র্যাটরা সংসদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের ওপর বাড়তে পারে কংগ্রেসের নজরদারি।
সব মিলিয়ে, এই মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কয়েকটি আসনের লড়াই নয়, বরং ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও আগামী দুই বছরের মার্কিন রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন