তরুণদের হাতে যদি থাকে দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান আর নতুন কিছু করার সুযোগ, তাহলে বদলে যেতে পারে দেশের অর্থনীতির চিত্র। আর সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে সরকার। জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে শুধু অর্থ সহায়তা নয়, প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান—তরুণদের এগিয়ে নিতে আরও বেশ কিছু উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
শনিবার ৩১ অক্টোবর জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সংকট মোকাবিলা এবং দেশের উন্নয়নের প্রতিটি পর্যায়ে যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তরুণরাই একটি জাতির প্রাণশক্তি এবং অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। তিনি জানান, তরুণদের মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা দিতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ভাবনী ধারণা যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
যুব উন্নয়নের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। পরে তৃণমূল পর্যায়ে যুব উন্নয়ন কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে তরুণদের কর্মসংস্থান ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে দেশের প্রতিটি জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তথ্য তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, এখন পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কেউ মাসে ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন, আবার কেউ কেউ এর চেয়েও বেশি উপার্জন করছেন।
তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত যুব উদ্যোক্তাদের মধ্যে ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় যুব পুরস্কারের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী নারী-পুরুষ ও যুব সংগঠককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে তরুণদের প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফ্রিল্যান্সিং এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন তরুণদের সামনে নতুন কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ তৈরি করছে।
এ লক্ষ্যে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন, স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষার মতো খাতে প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। রোববার ১ নভেম্বর পালিত হচ্ছে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬। এবারের প্রতিপাদ্য—‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’। দিবসটি সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের নিজেদের প্রতিভা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জাতীয় উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত ৫০০ কোটি টাকার তহবিল এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছায় এবং দেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে কতটা নতুন সুযোগ তৈরি করে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন