ইসরায়েলের নির্বাচনে কি আগেই তৈরি হচ্ছে কারচুপির অভিযোগ তোলার কৌশল? ভোটকেন্দ্রের বাইরে আরব মুসলিম ভোটারদের ভিডিও ধারণের জন্য বিশেষ দল গঠনের পরিকল্পনা করেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এক প্রতিবেদনে। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়লে এসব ভিডিওকে নির্বাচনী অনিয়মের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা হতে পারে। তবে এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ও বাস্তবতা নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়েছে।
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোটকেন্দ্রের বাইরে নজরদারি জোরদারের পরিকল্পনা করছে লিকুদ পার্টি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভোটারদের ভিডিও ধারণ, তথ্য সংগ্রহ এবং সেগুলো সরাসরি দলীয় সদর দপ্তরে পাঠানোর জন্য বিশেষ কর্মীদল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ধরনের দল গঠন ও পরিচালনার জন্য লাখ লাখ শেকেল ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে দলটি। গত কয়েক সপ্তাহে এসব দল গঠনের কাজ এগিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। কর্মীরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে না থেকে বাইরে অবস্থান করবেন, যাতে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত কঠোর বিধিনিষেধের বাইরে থেকে ভিডিও ধারণ করা যায়।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এই ভিডিওগুলো কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে? হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিকুদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন একটি প্রচারণা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মাধ্যমে দলটি নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়লে কারচুপির অভিযোগ তুলতে পারে। নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দলের কিছু কর্মকর্তা তাঁকে এই কৌশল গ্রহণের জন্য চাপ দিচ্ছেন। নেতানিয়াহু বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে তিনি সরাসরি এ বিষয়ে কোনো বৈঠকে অংশ নিয়েছেন, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিকুদ দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ২০২২ সালের ইসরায়েলি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই নির্বাচন ছিল বর্তমান নির্বাচনের জন্য এক ধরনের পরীক্ষামূলক মহড়া। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের বাইরে ধারণ করা ভিডিওগুলোকে নির্বাচনী কারচুপির প্রমাণ হিসেবে প্রচার করা হতে পারে। তবে এসব কর্মীর ভোটারদের পরিচয় যাচাই করার কোনো আইনি ক্ষমতা নেই। এ ছাড়া দেশজুড়ে পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য আলাদা একটি নির্বাচন জালিয়াতি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম সাধারণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ফলে এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা, ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, আরব মুসলিম ভোটারদের ভিডিও ধারণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন ইসরায়েলের নির্বাচনী পরিবেশে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তবে ভিডিও ধারণের পরিকল্পনা থাকলেই নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। অভিযোগগুলোর সত্যতা, পরিকল্পনার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের অবস্থানই শেষ পর্যন্ত বিষয়টির গুরুত্ব নির্ধারণ করবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন