ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে মোদির সঙ্গে ত্রিবেদীর ‘খুব ভালো’ ও ‘দীর্ঘ’ বৈঠক শিশির মনিরকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার চাইলেন রাশেদ খাঁন জঙ্গল সলিমপুরের পাশে পুলিশ একাডেমি ও কারাগার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ রাজধানীতে, পুলিশের লাঠিপেটা পাকিস্তানি সেনারা সৌদি আরবে অবস্থান করছেন: পাকিস্তান সেনাবাহিনী গাঢ় নীল পোশাকে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন জয়া আহসান রোলারের চাপায় ৩ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি ভারতের সঙ্গে শত্রুতা আমাদের প্রত্যাশা নয়, প্রশ্ন হচ্ছে ‘স্বার্থ সুরক্ষা’: নাহিদ ইসলাম শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানালো ভারত পর্দার ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’ এবার বাস্তবেও মন্ত্রীর মর্যাদায়

স্কুল থেকে ছাত্রী অপহরণের চেষ্টাকালে নারী আটক: উদ্ধারে গিয়ে জনতার হামলায় আহত ৪ পুলিশ

স্কুলের বিরতির সময় হঠাৎ এক অচেনা নারী এসে বললেন, ‘তোমার বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত।’ বাবাকে হাসপাতালে নেওয়ার
  • আপলোড সময় : ৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫২ সময়
  • আপডেট সময় : ৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫২ সময়
স্কুল থেকে ছাত্রী অপহরণের চেষ্টাকালে নারী আটক: উদ্ধারে গিয়ে জনতার হামলায় আহত ৪ পুলিশ

স্কুলের বিরতির সময় হঠাৎ এক অচেনা নারী এসে বললেন, ‘তোমার বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত।’ বাবাকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে স্কুল থেকে বের করে নিয়ে যান তিনি। কিন্তু সহপাঠীদের সন্দেহ হওয়ায় দ্রুত বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। পরে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অটোরিকশা থামিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার এবং ওই নারীকে আটক করেন স্থানীয়রা। এরপর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে গিয়ে ঘটে আরও ভয়াবহ ঘটনা। বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার বেথইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আটক নারী প্রিয়া আক্তারের বয়স ২৪ বছর। তিনি বাজিতপুর উপজেলার দিঘিরপাড় গ্রামের টিপু মিয়ার স্ত্রী। উদ্ধার হওয়া নয় বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইলমা আক্তার বেথইর মহল্লার বাসিন্দা জামাল মিয়ার মেয়ে।


বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কিশোয়ার সুলতানা জানান, দুপুরের বিরতির সময় বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কালো বোরকা পরা এক নারী তাদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি ইলমাকে তার বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বলে মিথ্যা তথ্য দেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে বের করে নিয়ে যান তিনি। বিষয়টি ইলমার সহপাঠীদের নজরে পড়লে তারা সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক ও দপ্তরিকে জানায়। এরপর বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিশুটির অভিভাবক ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে বিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের পিপুলিয়া এলাকায় একটি অটোরিকশা আটকিয়ে ইলমাকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে প্রিয়া আক্তারকে হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয়রা।


উদ্ধারের পর ইলমা জানায়, বাবার দুর্ঘটনার কথা বলে তাকে অটোরিকশায় তোলা হয়েছিল। গাড়ি চলার সময় ওই নারী তার কানের স্বর্ণের দুল খুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও জানায় শিশুটি। প্রিয়া আক্তারকে আটকের পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা তাকে মারধর করে একটি শ্রেণিকক্ষে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ তাকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের গাড়িতে তুলে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


অভিযুক্ত নারীকে নিজেদের হাতে বিচার করার দাবিতে একদল উত্তেজিত মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের পিকআপ ভ্যানের সামনের কাচ ও বাম্পার ভেঙে যায়। ইটের আঘাতে চার পুলিশ সদস্যও আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন উপপরিদর্শক মো. মাসুদ রানা, কনস্টেবল আতাউর রহমান, কনস্টেবল সারোয়ার হোসেন ও কনস্টেবল আল আমিন। পরে তাঁদের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া শিশু ও আটক নারীকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।


চিকিৎসক ডা. মিঠুন রানা জানান, প্রাথমিক চিকিৎসার পর আহত পুলিশ সদস্য, শিশু এবং আটক নারী সবাই শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। আহত উপপরিদর্শক মো. মাসুদ রানা বলেন, অভিযুক্ত নারীকে আইন অনুযায়ী হেফাজতে নেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আবার মারধরের চেষ্টা করে। এ সময় দায়িত্ব পালনরত পুলিশের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত এবং সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানান, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।স্কুলের বিরতির সময় হঠাৎ এক অচেনা নারী এসে বললেন, ‘তোমার বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত।’ বাবাকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে স্কুল থেকে বের করে নিয়ে যান তিনি। কিন্তু সহপাঠীদের সন্দেহ হওয়ায় দ্রুত বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। পরে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অটোরিকশা থামিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার এবং ওই নারীকে আটক করেন স্থানীয়রা। এরপর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে গিয়ে ঘটে আরও ভয়াবহ ঘটনা। বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার বেথইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আটক নারী প্রিয়া আক্তারের বয়স ২৪ বছর। তিনি বাজিতপুর উপজেলার দিঘিরপাড় গ্রামের টিপু মিয়ার স্ত্রী। উদ্ধার হওয়া নয় বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইলমা আক্তার বেথইর মহল্লার বাসিন্দা জামাল মিয়ার মেয়ে।


বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কিশোয়ার সুলতানা জানান, দুপুরের বিরতির সময় বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কালো বোরকা পরা এক নারী তাদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি ইলমাকে তার বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বলে মিথ্যা তথ্য দেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে বের করে নিয়ে যান তিনি। বিষয়টি ইলমার সহপাঠীদের নজরে পড়লে তারা সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক ও দপ্তরিকে জানায়। এরপর বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিশুটির অভিভাবক ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে বিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের পিপুলিয়া এলাকায় একটি অটোরিকশা আটকিয়ে ইলমাকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে প্রিয়া আক্তারকে হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয়রা।


উদ্ধারের পর ইলমা জানায়, বাবার দুর্ঘটনার কথা বলে তাকে অটোরিকশায় তোলা হয়েছিল। গাড়ি চলার সময় ওই নারী তার কানের স্বর্ণের দুল খুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও জানায় শিশুটি। প্রিয়া আক্তারকে আটকের পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা তাকে মারধর করে একটি শ্রেণিকক্ষে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ তাকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের গাড়িতে তুলে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


অভিযুক্ত নারীকে নিজেদের হাতে বিচার করার দাবিতে একদল উত্তেজিত মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের পিকআপ ভ্যানের সামনের কাচ ও বাম্পার ভেঙে যায়। ইটের আঘাতে চার পুলিশ সদস্যও আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন উপপরিদর্শক মো. মাসুদ রানা, কনস্টেবল আতাউর রহমান, কনস্টেবল সারোয়ার হোসেন ও কনস্টেবল আল আমিন। পরে তাঁদের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া শিশু ও আটক নারীকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।


চিকিৎসক ডা. মিঠুন রানা জানান, প্রাথমিক চিকিৎসার পর আহত পুলিশ সদস্য, শিশু এবং আটক নারী সবাই শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। আহত উপপরিদর্শক মো. মাসুদ রানা বলেন, অভিযুক্ত নারীকে আইন অনুযায়ী হেফাজতে নেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আবার মারধরের চেষ্টা করে। এ সময় দায়িত্ব পালনরত পুলিশের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত এবং সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানান, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ