ঢাকা | |

ইসরায়েলি নৃশংসতায় তিন বছরে ৮০০ ফিলিস্তিনি শিক্ষক নিহত

ব্যাংকে একই পরিবারের একাধিক পরিচালক রাখার নিয়ম কঠোর করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেটিতেই এবার আসছে বড় পরিবর্তন।
  • আপলোড সময় : ৬ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৩:৫৮ সময়
  • আপডেট সময় : ৬ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৩:৫৮ সময়
ইসরায়েলি নৃশংসতায় তিন বছরে ৮০০ ফিলিস্তিনি শিক্ষক নিহত

ব্যাংকে একই পরিবারের একাধিক পরিচালক রাখার নিয়ম কঠোর করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেটিতেই এবার আসছে বড় পরিবর্তন। বাংলাদেশ ব্যাংক যেখানে একই পরিবার থেকে পরিচালকের সংখ্যা তিনজন থেকে কমিয়ে দুইজন করার প্রস্তাব দিয়েছিল, সেখানে সেই প্রস্তাবই আবার শিথিল করার পথে সরকার। শুধু তাই নয়, পরিচালকদের টানা মেয়াদ ১২ বছর থেকে ছয় বছরে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—ব্যাংকের পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কমানোর উদ্যোগ কি আগের অবস্থাতেই ফিরে যাচ্ছে? ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। সুশাসন নিশ্চিত করতে ২০২৫ সালে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সংশোধিত খসড়া তৈরি করে। সেখানে একই পরিবারের পরিচালক সংখ্যা কমানো এবং পরিচালকদের টানা মেয়াদ সীমিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।


বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ খসড়ায় একই পরিবার থেকে একই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সর্বোচ্চ দুইজন পরিচালক রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল। পাশাপাশি একজন পরিচালক টানা সর্বোচ্চ ছয় বছর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন—এমন প্রস্তাবও ছিল। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এই দুটি প্রস্তাবই পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে খসড়াটি আবার সাজাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বলা হয়েছে।


পরিবারকেন্দ্রিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধান বহাল রাখার বিষয়ে বৈঠকে মতৈক্য হয়েছে। অর্থাৎ একই পরিবারের সর্বোচ্চ তিনজন পরিচালক রাখার বর্তমান নিয়মটি বহাল থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে পরিচালকদের টানা মেয়াদের ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যেখানে ছয় বছরের সীমা চেয়েছিল, সেখানে আলোচনায় ১২ বছরের পরিবর্তে নয় বছর করার বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।


গত ২০ সেপ্টেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে আইন ও বিচার বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ১৭টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ, স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং ব্যবসার স্থিতিশীলতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। এ কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব করা কিছু কঠোর বিধান শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।


বর্তমান আইনের ১৫-এর ১০ ধারা অনুযায়ী, একই পরিবারের সর্বোচ্চ তিনজন সদস্য একই সময়ে একটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকতে পারেন। পাশাপাশি ওই পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বা নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বোচ্চ দুটি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষ থেকেও প্রতিনিধি পরিচালক রাখার সুযোগ রয়েছে। পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কমানোর উদ্যোগে এই সীমা দুইজনে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হলেও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসসহ কয়েকটি পক্ষ বর্তমান তিনজনের সীমা বহাল রাখার অনুরোধ করে। শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থানই গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।


পরিচালকদের মেয়াদ নিয়েও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইতিহাস। ২০১৮ সালে একজন পরিচালকের একটানা মেয়াদের সীমা ছয় বছর থেকে বাড়িয়ে ১২ বছর করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের সংশোধনীতেও ১২ বছরের সীমা বহাল থাকে। এরপর তিন বছর বিরতি দিয়ে আবার পরিচালনা পর্ষদে ফেরার সুযোগ রাখা হয়। এবার বাংলাদেশ ব্যাংক সেই টানা মেয়াদ ছয় বছরে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস এর বিরোধিতা করেছে। তাদের যুক্তি, মেয়াদ কমিয়ে দিলে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অভিজ্ঞতার ঘাটতি তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে যুক্ত অভিজ্ঞ পরিচালকদের ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।


এদিকে খসড়ায় ব্যাংকে কৌশলগত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ১০ শতাংশ পরিশোধিত মূলধনের সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। তবে এ ধরনের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রাখা হতে পারে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে। নতুন ব্যবস্থায় প্রয়োজনে পরিচালনা পর্ষদ পুরোপুরি বাতিল না করেও প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ রাখা হতে পারে। অর্থাৎ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বহাল রেখেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রশাসকের মাধ্যমে ব্যাংকের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে পারবে।


আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত করে আবার পাঠাতে বলা হয়েছে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং, মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন এবং জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। অর্থাৎ এখনো আইনটি চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো কার্যকর হলে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পারিবারিক প্রতিনিধিত্ব, পরিচালকদের মেয়াদ এবং ব্যাংকের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপের কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। এখন দেখার বিষয়, চূড়ান্ত খসড়ায় পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কমানোর উদ্যোগ কতটা কঠোর থাকে এবং ব্যাংক পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত কী ধরনের বিধান রাখা হয়।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
পদত্যাগ করেছেন বিএনপির এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, আসন শূন্য ঘোষণা

পদত্যাগ করেছেন বিএনপির এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, আসন শূন্য ঘোষণা