ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় বড়দের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরাও। রাজধানীর শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, বেডের সংকটে এক বিছানায় দুই থেকে তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনের তুলনায় নার্স কম থাকায় চিকিৎসক ও নার্সদেরও বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থেকে ২২ মাস বয়সী ফাতিহাকে নিয়ে এসেছেন তার মা রুমা বেগম। শিশুটির জ্বরের পাশাপাশি পা ফুলে যাওয়া এবং ঘাড় নাড়াতে সমস্যা হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হলেও তখনও সব রিপোর্ট হাতে পাননি তার পরিবার। একই বেডে চিকিৎসা নিচ্ছিল আট বছর বয়সী ইলামনি। গত শুক্রবার থেকে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে এলে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। শিশুটির মা জানান, ইলামনি নিয়মিত স্কুলে যায়। সেখানেই মশার কামড় থেকে ডেঙ্গু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৪২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৯ জনে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭৭ হাজার ৬৭২ জন। এর আগের ২৪ ঘণ্টায়, অর্থাৎ সোমবার, ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু এবং ২ হাজার ৩৬ জন আক্রান্ত হয়েছিল। তার আগের দিন রবিবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১৫৮ জন, যা চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ।
শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের নার্সরা জানান, প্রয়োজনের তুলনায় নার্সের সংখ্যা কম। বিশেষ করে রাতের পালায় একটি শিশুর শিরায় ক্যানুলা করাতেও কয়েকজনের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। তার ওপর একই বেডে একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ফারজানা আফরোজ জানান, ডেঙ্গুতে বড় ও শিশু রোগীদের মধ্যে হাসপাতালে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যু হয়নি। নতুন চিকিৎসা নির্দেশনা মেনেই রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলমান থাকায় ডেঙ্গুর জন্য আলাদা ওয়ার্ড চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি জানান, হাসপাতালের তিনটি শিশু ওয়ার্ডে মোট ৬০টি বেড রয়েছে। এর মধ্যে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ৩০টি বেড রাখা হলেও সেখানে রোগীর সংখ্যা ৭০-এর বেশি। ফলে এক বেডে তিনজন পর্যন্ত শিশুকে রাখতে হচ্ছে। প্রতিটি শিশুর সঙ্গে একজন করে স্বজন থাকায় একটি বেডের আশপাশে অনেক মানুষের অবস্থান করতে হচ্ছে, যা চিকিৎসা কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসক বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পরামর্শ দিয়েছেন। শিশুদের মশারির মধ্যে ঘুমানো এবং শরীর ঢেকে রাখার মতো পোশাক পরানোর কথাও বলা হয়েছে। জ্বর হলেই আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুর বিপদসংকেত না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে বাড়িতেও পর্যবেক্ষণে রাখা যায়। তবে প্রস্রাবের পরিমাণ, বমি ও অন্যান্য সতর্কতামূলক লক্ষণ নিয়মিত খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি জ্বরের সময় ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের রস ও স্যুপের মতো তরল খাবার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন