রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিজ বাড়ি থেকে এরশাদুল হক রতন নামে ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কয়েক দিন ধরে তার কোনো সাড়া-শব্দ না পাওয়ার পর বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে জানালা খুলে ঘরের ভেতরে তার মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। মঙ্গলবার দুপুরে মোহাম্মদপুরের নুরজাহান রোডের ডি ব্লকের ভি-২১ নম্বর বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, দুই থেকে তিন দিন আগে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশ জানায়, দুপুর আড়াইটার দিকে রনি নামে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে খবর দেন, ওই বাড়ির ভেতর থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বাইরে থেকে একটি জানালার পাল্লা খুলে ঘরের ভেতরে দরজা বন্ধ অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে নিহতের ছোট ভাই রঞ্জু ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তার উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এরশাদুল হক রতন ওই বাড়ির মালিক ও স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবা আব্দুল কাইয়ুম মণ্ডল অনেক আগেই মারা যান। স্বজন ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রতনের মা মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি বাড়িটিতে একাই বসবাস করছিলেন। এর আগে মায়ের সঙ্গেই থাকতেন তিনি। নিহতের ছোট ভাই রঞ্জু জানান, তার বড় ভাই দীর্ঘদিন বেকার ছিলেন। সম্প্রতি তার হৃদরোগ ধরা পড়ে। এর মধ্যেই তিনি অনেকটা নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছিলেন।
রতনের স্ত্রী রত্না বেগম ও একমাত্র মেয়ে আরিয়ানা প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে রংপুরে বসবাস করছেন। রত্না সেখানে শিক্ষকতা করেন। আরিয়ানা হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। পুলিশ জানিয়েছে, রতনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার স্ত্রী ও মেয়েকে ঢাকায় আসতে বলা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন কাজের কথা জানিয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে আসতে অপারগতার কথা জানান।
রাজধানীতে একাকী মানুষের নিঃসঙ্গ মৃত্যুর ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। কয়েক মাস আগে পল্লবীর একটি বাসা থেকেও দীর্ঘদিন একা বসবাস করা এক বৃদ্ধার পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। একের পর এক এমন ঘটনায় নগরজীবনে পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা ও একাকীত্বের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসছে। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, সুরতহাল শেষে এরশাদুল হক রতনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন