মিরপুর-১-এর একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রাতের আঁধারে হামলা, লুটপাট ও ভবন ভেঙে ফেলার ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনাটিকে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের সঙ্গে তুলনা করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে হামলা ও জমি দখলের অভিযোগের বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এ মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, শিশুদের টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর পোস্টে এ ঘটনার সঙ্গে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের তুলনা করা হয়।
এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর ভোররাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রটির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, মুখোশধারী দুই শতাধিক ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। এরপর কেন্দ্রের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ভবন ও তিনটি সেমিপাকা স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলায় চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, সরকারি টিকা, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সামগ্রী লুট করা হয়েছে। একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ আরও বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা।
এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় একজনের নাম উল্লেখ করে আরও প্রায় দুইশ থেকে আড়াইশ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জমি দখলের উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগও করেছে। তবে জমির মালিকানা ও হামলার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য রয়েছে, যা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের বিষয়। ঘটনার পর পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনায় আরও যারা জড়িত, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনাটিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশের কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্তে কোনো পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। প্রায় পাঁচ দশক ধরে মিরপুরের এই কেন্দ্রে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃস্বাস্থ্য এবং শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। হামলার পর কেন্দ্রটির স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, ঘটনার উদ্দেশ্য এবং জমি-সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা কতটা, সেটিই সামনে আসার অপেক্ষায়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন