ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে তেলের দাম কম ছিল, পাচারের ঝুঁকি ঠেকাতে বেড়েছে দাম: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এশিয়ান গেমস: মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, বাংলাদেশের বিদায় মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শায়খ ইবরাহিম মারা গেছেন ভোট চলাকালে মস্কোয় ইউক্রেনের হামলা, তবুও পুতিনের দলের বড় জয় নজরুলের এমপি পদের বিষয়ে সংসদের চিঠির অপেক্ষায় ইসি ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির ইবিতে ফুটবল খেলা নিয়ে দুই বিভাগের সংঘর্ষে আহত ১০ ডায়ানার মৃত্যুর কদিন পর চার্লস বলেছিলেন, মানুষ ‘খুব শিগগির’ তাকে ভুলে যাবে

সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই এবার সরাসরি প্রশ্ন তুললেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর অভিযোগ, সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তি
  • আপলোড সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৫২ সময়
  • আপডেট সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৫২ সময়
সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই এবার সরাসরি প্রশ্ন তুললেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর অভিযোগ, সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তি ব্যবহার করে জনগণের মতামত পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, এমন প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অতীতের বিভিন্ন সরকারের মতো বর্তমান সরকারও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে পারে। সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াতে ইসলামীর তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগের আয়োজনে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।


তিনি বলেন, আগে বিরোধী দলকে ‘ভূতে ধরেছে’ বলা হতো, কিন্তু এখন তাঁর মনে হচ্ছে সরকারকেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ‘ভূতে’ ধরেছে। তাঁর দাবি, সরকারের মধ্যে অস্থিরতা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের রায়কে পাশ কাটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধও বাড়ছে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আইন প্রণয়ন বা সংশোধন করা যেতে পারে। তবে ২০২৫ সালে জারি করা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশকে ২০২৬ সালে আইনে রূপ দেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই আবার সংশোধনের উদ্যোগ কেন নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।


গোলাম পরওয়ার বলেন, আগের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে বেশ কিছু বিতর্কিত বিধান বাতিল ও পরিবর্তন করা হয়েছিল। অথচ আইন কার্যকর হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন সংশোধনের প্রস্তাব এসেছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে আবার কেন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলো, সরকারকে সেটি ব্যাখ্যা করতে হবে। প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিভিন্ন ধারা নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি। তাঁর মতে, মানহানি, গুজব, অসত্য তথ্য, তল্লাশি ও জব্দের মতো বিষয়ে আইনের ভাষা অস্পষ্ট থাকলে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এসব বিধান ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


বিশেষ করে জামিন অযোগ্য ধারাগুলো বাতিলের দাবি জানিয়েছেন গোলাম পরওয়ার। পাশাপাশি ‘গুজব’, ‘অপতথ্য’ ও ‘ভুল তথ্য’—এই শব্দগুলোর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, স্পষ্ট সংজ্ঞা না থাকলে আইনের অপব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের আটকের সুযোগ তৈরি হতে পারে। গোলাম পরওয়ার বিদ্যমান সাইবার সুরক্ষা আইন বহাল রেখে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো আপাতত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, শুধু আইনের খুঁটিনাটি নিয়ে ব্যস্ত না থেকে সরকারের উচিত জনগণের মনোভাব বোঝা। রাজপথের মিছিল, স্লোগান, পোস্টার ও দেয়াললিখনের মাধ্যমেও জনগণের মতামত প্রকাশ পায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের ওপর কঠোর আইন প্রয়োগ করা হলে তা সরকারের জন্য আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। আইন প্রণয়নের পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারীদের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো শাসকের চরিত্র কর্তৃত্ববাদী হলে আইনকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা বা প্রয়োগের মাধ্যমে নিরপরাধ মানুষও শাস্তির মুখে পড়তে পারে।


সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রফিকুজ্জামান রুমান। তিনি সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারা, সম্ভাব্য প্রভাব এবং নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে আইনের সম্পর্ক তুলে ধরেন। মূল প্রবন্ধে নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে ১৬টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে প্রকৃত সাইবার অপরাধকে আইনের মূল বিষয় করা, মতপ্রকাশ ও সাইবার অপরাধকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা এবং অস্পষ্ট ও ব্যাপক অর্থবোধক শব্দের ব্যবহার কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।


এ ছাড়া গুজব ও অপতথ্যের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত ক্ষতির বিষয়টি প্রমাণের বাধ্যবাধকতা, স্বাধীনভাবে গুজব যাচাইয়ের ব্যবস্থা, কঠোর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান পুনর্বিবেচনা, গ্রেপ্তার ও তল্লাশির ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতির গুরুত্ব বাড়ানো এবং জামিনের সুযোগ নিশ্চিত করার সুপারিশও করা হয়েছে। সেমিনার থেকে ডিজিটাল কনটেন্ট অপসারণে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, সাইবার অপরাধ তদন্তে দক্ষতা বৃদ্ধি, আইনের রাজনৈতিক অপব্যবহার বন্ধ এবং সাইবার সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করবে দুদক

আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করবে দুদক