ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
সন্তান অপরাধ করলে বাবা-মাকে জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিকল্পনা! যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক লড়াইয়ে জড়াতে চায় না হুথি: ট্রাম্প দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পুলিশ হেফাজতে এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা হলে সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হবে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা আন্দোলন না করে নাশকতা করছে: রেলপথ প্রতিমন্ত্রী যে আইনে বাতিল হতে পারে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বিধি ভেঙে পাঁচ শিক্ষকের ৬৩ লাখ টাকার বিল অনুমোদন চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণে আসছে না হাম, বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী মিয়ানমারের বিপক্ষে ঋতুপর্ণাদের বাঁচা-মরার লড়াই আজ ফ্রি কিক থেকে মেসির দুর্দান্ত গোল, তবু জিততে পারল না ইন্টার মিয়ামি

সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা হলে সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হবে

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব ও সংসদ
  • আপলোড সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:৩১ সময়
  • আপডেট সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:৩১ সময়
সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা হলে সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হবে

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন, বর্তমান বিএনপি সরকার গণভোটের গণরায় অস্বীকার করছে। তার দাবি, গণভোটে যে সিদ্ধান্ত এসেছে, তা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নয়, সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। আর তা না হলে দেশের সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হতে পারে। রোববার ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী মনছারের ঘাটে কৃষক সমাবেশ ও গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আখতার হোসেন।


এদিন জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর নেতাদের সঙ্গে সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময়ের কথা ছিল। তবে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি দল বৈঠকে অংশ নিচ্ছে না বলে আগে থেকেই জানা যায়। আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার গণভোটের রায় নিয়ে এমন একটি অবস্থান নিয়েছে, যেখানে গণভোটের কিছু অংশ মানার কথা বলা হলেও অন্য অংশ গ্রহণ করা হচ্ছে না। তার দাবি, গণভোটে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল এবং সেই রায়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামো থেকে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।


তবে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে এনসিপির এই নেতার বক্তব্য হলো, প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তনের দিকে না গিয়ে সরকার সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য সংসদে একটি সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই কমিটিতে এনসিপি কেন অংশ নিচ্ছে না—তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিকে আলাদাভাবে কমিটিতে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু এনসিপি সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে।


তার যুক্তি, সংবিধান সংশোধন কমিটি যে কাঠামোর ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে, সেখানে জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায়ের বাস্তব প্রয়োগ নেই। তাই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্য পূরণ হবে না বলে মনে করছে দলটি। আখতার হোসেন আরও বলেন, সংবিধান নিয়ে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়েও গণভোটে জনগণ মত দিয়েছে। তার দাবি, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা প্রয়োজন।


তিনি সতর্ক করে বলেন, সংবিধান-সম্পর্কিত পরিবর্তনগুলো যদি সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে না করে সাধারণ সংশোধনীর মাধ্যমে করা হয়, তাহলে দেশে বিদ্যমান সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হতে পারে। এনসিপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, সংসদে সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তারা নিজেদের মতো করে সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। তার দাবি, এর ফলে বিরোধী দলের বক্তব্য এবং জনগণের রায় যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।


এ কারণেই সংসদের সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে এনসিপি। আখতার হোসেন স্পষ্ট করে বলেছেন, বর্তমান কাঠামোর এই কমিটির বৈঠকে তারা অংশ নেবেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে এবং সেখানে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান-সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা করে, তাহলে এনসিপি সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে।


অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদনে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ফলে গণভোটের রায় কীভাবে বাস্তবায়ন হবে এবং সংবিধান পরিবর্তনের জন্য কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে—এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির বিল ২৭০ দিনের বেশি বকেয়া হলে ইডিএফ ঋণ নয়

ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির বিল ২৭০ দিনের বেশি বকেয়া হলে ইডিএফ ঋণ নয়