মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চললেও বিশ্ববাজারে হঠাৎ কমতে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সৌদি আরব থেকে তেলের আংশিক রপ্তানি আবারও শুরু হওয়ার খবর এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত কমানোর সম্ভাবনায় বাজারে ঝুঁকির প্রভাব কিছুটা কমেছে। এর মধ্যেই এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে তেলের দাম।
সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ২ ডলার ১৬ সেন্ট বা ২ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে ১০১ ডলার ৭১ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম টেক্সাস মধ্যবর্তী অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে ২ ডলার ১৫ সেন্ট বা ২ দশমিক ১৪ শতাংশ। ফলে প্রতি ব্যারেলের দাম নেমে এসেছে ৯৮ ডলার ১৫ সেন্টে। দুটি বেঞ্চমার্ক তেলের দামই ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সৌদি তেল স্থাপনায় হুথিদের হামলার পর সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই আংশিক রপ্তানি পুনরায় চালুর খবর বাজারে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে। ফলে সরবরাহ সংকট নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে বলে বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে শুধু সৌদি আরবের তেল রপ্তানির খবরই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত কমানোর সম্ভাবনাও তেলের বাজারে প্রভাব ফেলছে। চলতি সপ্তাহে কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো পথ তৈরি হতে পারে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে বাজারে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ প্রশমনে চলতি সপ্তাহে কূটনৈতিক পথ উন্মোচনের আশায় তেলের বাজার থেকে ঝুঁকির কারণে বাড়তি যে মূল্য যুক্ত হয়েছিল, তার একটি অংশ কমে যাচ্ছে। তবে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমে না এলে তেলের সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। বিশ্ববাজারে তেলের দামের এই পতন জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাজার পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে সৌদি তেল রপ্তানি, হুথি হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের গতিপথের ওপর তেলের দাম অনেকটাই নির্ভর করবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন