জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টায় তুরস্কের একটি বিমান সংস্থার ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। ইস্তাম্বুল হয়ে তাঁর নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান নিউইয়র্কে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ দেবেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও নিউইয়র্কে জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধিও সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন।
৩৫ সদস্যের এই প্রতিনিধিদলে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারাও রয়েছেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে রয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে ২৪ সেপ্টেম্বর। এদিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে।
পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসতে পারে। সফরসূচি অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। ২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। একই দিনে জলবায়ু পরিবর্তন ও ন্যায্য রূপান্তর নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলায় একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সব মিলিয়ে, নিউইয়র্ক সফরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের পাশাপাশি বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন