সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে দানবাক্স খুলতেই সামনে এসেছে বিপুল পরিমাণ দানের হিসাব। প্রায় সাড়ে ৭০০ বছরের ইতিহাসে এবার চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে চলছে দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী পিতলের ডেগে জমা অর্থ গণনা। এর আগে প্রতিবারই নগদ টাকার পাশাপাশি মিলেছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী।
শনিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে মাজারের দানবাক্সের অর্থ গণনা শুরু হয়। মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নির্ধারণে গঠিত কমিটির ব্যবস্থাপনায় এই গণনা চলছে। এতে মাদরাসার শিক্ষার্থী, মাজার কমিটির সদস্য এবং জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা অংশ নিয়েছেন। কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবার চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে অর্থ গণনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট সর্বশেষ দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সেবার গণনা শেষে পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এর সঙ্গে ছিল বিভিন্ন দেশের মুদ্রা এবং সোনা ও রুপার গয়না। প্রথমবার প্রকাশ্যে দানবাক্স খোলা হয় গত ২২ জুন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের দানবাক্স ও ডেগ সিলগালা করার চার দিন পর গণনা করে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। ছিল সাত আনা সোনা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে পাঁচ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় মোট অর্থ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয়বার প্রকাশ্যে গণনা করে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। পাশাপাশি পাওয়া যায় নয় গ্রাম সোনা, ১০ গ্রাম সোনাসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রুপা। এমনকি দান হিসেবে পাওয়া গিয়েছিল একটি গরু ও ৬৫টি ছাগল। এর মধ্যে গরু ও ৪০টি ছাগল রান্না করে মাজারের ভক্ত ও অনুরাগীদের খাওয়ানো হয়। বাকি ২৫টি ছাগল বিক্রি করে পাওয়া যায় এক লাখ ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা।
মাজার পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থের হিসাব স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে সংরক্ষণের লক্ষ্যেই নির্দিষ্ট সময় পরপর বাক্স খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারও অর্থ গণনার বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী এই মাজারে আসেন। তাদের অনেকেই নগদ অর্থের পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য সামগ্রী দান করেন। আর নির্দিষ্ট সময় পরপর সেই দানের হিসাবই প্রকাশ্যে গণনা করা হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন