ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফ‌রে যা‌চ্ছেন প্রধানমন্ত্রী চাঁদ দখলের দাবি ট্রাম্পের, নিজেকে সুপারহিরো রূপে প্রকাশ ঘুপচি রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না, সৎ সাহস থাকলে আদালতে আসুন: ডা. জাহিদ আসিফ নজরুলের ছাগল দুইটাই খাওয়া উচিত ছিল: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আয়ারল্যান্ডকে একীভূত করার পক্ষে ট্রাম্প, ক্ষুব্ধ যুক্তরাজ্য আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক কোনো মানুষ যেন আইনি সহায়তার বাইরে না থাকে সে ব্যবস্থা করছি: আইনমন্ত্রী বিপিএলে ফিক্সিংয়ের ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে কোনো ক্রিকেটারকে বাদ দিতে বলেননি তদন্ত কমিটির প্রধান বিগত ১৮ বছরে বিদ্যুৎ-গ্যাস খাত ধ্বংস করা হয়েছে: ধর্মমন্ত্রী ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ইয়াবা পাচারের গোপন পথ ‘শিশুর পেট’

যে বয়সে স্কুলে যাওয়ার কথা, মাঠে খেলাধুলা করার কথা—সেই বয়সেই মাদক কারবারিদের ভয়ংকর ফাঁদে পড়ছে শিশুরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
  • আপলোড সময় : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৩৭ সময়
  • আপডেট সময় : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৩৭ সময়
ইয়াবা পাচারের গোপন পথ ‘শিশুর পেট’

যে বয়সে স্কুলে যাওয়ার কথা, মাঠে খেলাধুলা করার কথা—সেই বয়সেই মাদক কারবারিদের ভয়ংকর ফাঁদে পড়ছে শিশুরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এবার শিশুদের পাকস্থলীকে ব্যবহার করা হচ্ছে ইয়াবা পাচারের গোপন পথ হিসেবে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৯ ও ১২ বছর বয়সি দুই শিশুর পেট থেকে উদ্ধার হয়েছে ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা।


র‌্যাব জানিয়েছে, কক্সবাজারের উখিয়া থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচারের কাজে শিশু দুটিকে ব্যবহার করা হচ্ছিল। একটি সিএনজি অটোরিকশায় তল্লাশির সময় এক নারীসহ দুই শিশুকে আটক করা হয়। সন্দেহ হওয়ায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে এক্স-রে পরীক্ষায় পাকস্থলীর ভেতরে ইয়াবার প্যাকেট থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে শিশু দুটির পেট থেকে মোট ১৩৩টি প্যাকেট বের করা হয়। এর মধ্যে ৯ বছর বয়সি শিশুটির পাকস্থলী থেকে ৬৭টি এবং ১২ বছর বয়সি শিশুটির পেট থেকে ৬৬টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এসব প্যাকেটে ছিল মোট ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, শিশুদের সঙ্গে একজন নারীকে রাখার উদ্দেশ্য ছিল সন্দেহ এড়ানো। পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াতের পরিবেশ তৈরি করে ইয়াবার চালান পার করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। র‌্যাবের দাবি, অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে শিশু দুটিকে এই বিপজ্জনক কাজে যুক্ত করা হয়। তাদের মাসে ৮ হাজার টাকা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের বাজার খরচ বহনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই শিশুদের মাদক পরিবহনে ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা গেছে, এর আগেও শিশু দুটিকে দুইবার ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং শিশুদের নিয়মিত মাদকবাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না, সেটিও এখন তদন্তের বিষয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলার উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, শিশুদের পাকস্থলী ব্যবহার করে মাদক পরিবহন কারবারিদের একটি নতুন কৌশল। এ ধরনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারীদের ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।


শিশু-কিশোরদের পাকস্থলী ব্যবহার করে ইয়াবা পরিবহনের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৯ সালে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ঢাকায় ইয়াবা আনার সময় ১৩ ও ১৪ বছর বয়সি দুই কিশোরকে আটক করা হয়েছিল। তাদের পাকস্থলী থেকেও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকেও ইয়াবা উদ্ধারের তথ্য প্রকাশ পেয়েছিল। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, পাকস্থলীতে বহন করা ইয়াবার কোনো প্যাকেট ছিঁড়ে গেলে মুহূর্তের মধ্যে মাদকের উপাদান শরীরে ছড়িয়ে মারাত্মক বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে। অর্থের বিনিময়ে শিশুদের এমন ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া তাই শুধু মাদক পাচারের ঘটনা নয়—এটি শিশুদের জীবন নিয়ে ভয়ংকর অপরাধও।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘৮০-৯০ দশকের’ ছবি বানাচ্ছেন? জেনে নিন আড়ালের ঝুঁকিগুলো

‘৮০-৯০ দশকের’ ছবি বানাচ্ছেন? জেনে নিন আড়ালের ঝুঁকিগুলো