ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের সঙ্গে টেকসই অংশীদারত্ব গড়তে আগ্রহী জাপান, বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে টিআইবির উদ্বেগ, অপসারণের দাবি চৌদ্দগ্রামে বালু ওঠানো-নামানো নিয়ে বিরোধ, ইসলামী সংগীতশিল্পীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন এলিজা জামান, বাদ পড়লেন মেঘনা আলম জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদার মৃত্যু, বয়স হয়েছিল ৯০ বছর নিকলীতে ঘর থেকে তুলে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার মহানবীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে তাহিরপুরে যুবক পুলিশ হেফাজতে, ভুয়া আইডির দাবি বিকল্প পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে হকার উচ্ছেদ বন্ধের দাবি, গ্রেপ্তার করলে থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগে গণবিক্ষোভ করবে এনসিপি

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া যাবে না: আনু মুহাম্মদ

চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থ ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে
  • আপলোড সময় : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫৭ সময়
  • আপডেট সময় : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫৭ সময়
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া যাবে না: আনু মুহাম্মদ

চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থ ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটি আয়োজিত সভায় বন্দরের ব্যবস্থাপনা, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতীয় স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।


অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নতুন কোনো বিষয় নয়। অতীতেও এ ধরনের চেষ্টা হয়েছে। সরকার পরিবর্তন হলেও বাস্তব কর্মকাণ্ডে তেমন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। একই ধরনের উদ্যোগ বারবার সামনে আসছে এবং এর সঙ্গে অস্বচ্ছতা ও গোপনীয়তাও বজায় রাখা হচ্ছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার যে উদ্যোগ চলছে, তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন থাকলে সরকারকে যুক্তি ও তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। কিন্তু বিভিন্ন প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্য উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না এবং চুক্তির বিষয়গুলোও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না।


তিনি আরও বলেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এতে রাষ্ট্রের বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির হাতে উদ্বৃত্ত অর্থও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বন্দরের মাসুল বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব তুলে ধরে আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশের মোট আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই বাংলাদেশের অর্থনীতির ‘হৃদপিণ্ড’ হিসেবে বিবেচিত এই বন্দরকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ কোনো বন্দরের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।


তার মতে, বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে হলে কাস্টমস ব্যবস্থার সংস্কার, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে। বিদেশি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়ার সঙ্গে এসব সমস্যার সমাধানের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আলোচনাসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির নামে বিদেশি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে টার্মিনাল দেওয়ার আগে দেশের বর্তমান সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।


সভায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হলেও যেকোনো সিদ্ধান্তে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দেওয়ার আগে চুক্তির সব শর্ত, সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব জনগণের সামনে প্রকাশ করার দাবিও জানান তারা।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শাহজালাল (রহ.) মাজারে ৫ম বারের মতো দানবাক্স ও ডেগ খুলে অর্থ গণনা শুরু

শাহজালাল (রহ.) মাজারে ৫ম বারের মতো দানবাক্স ও ডেগ খুলে অর্থ গণনা শুরু