যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর একটি মসজিদে হামলার ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার এবং হামলাকারীদের বক্তব্য প্রচারে সহায়তার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। উত্তর ক্যারোলিনার বাসিন্দা ওই কিশোরীকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার একটি গ্র্যান্ড জুরি তাকে অভিযুক্ত করে। ফরসিথ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি জিম ও’নিল জানান, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব রশ হাশানাহকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলা অ্যাটর্নি বলেন, উত্তর ক্যারোলিনার আইন অনুযায়ী কোনো অপরাধে সহায়তা বা সহযোগিতা করা ব্যক্তিকেও মূল অপরাধীর মতো একই মাত্রার অপরাধের জন্য দায়ী করা যেতে পারে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্ক ও ১৮ বছর বয়সী ক্যালেব ভাসকেজ ছিলেন মূল হামলাকারী। গত ১৮ মে সান দিয়েগোর একটি ইসলামিক কেন্দ্রে তারা হামলা চালায়।
হামলার সময় ভবনের ভেতরে প্রায় ১৪০ জন শিশু ছিল। তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে একজন নিরাপত্তাকর্মী হামলাকারীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন এবং ভবনটি নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহসহ মনসুর কাজীহা ও নাদের আওয়াদ নিহত হন। পরে কাছের একটি গাড়িতে হামলাকারী দুজনেরও মৃত্যু হয়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, হামলাকারীরা পরিধানযোগ্য ক্যামেরার মাধ্যমে হামলার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করেছিল। একই সঙ্গে তাদের পরিকল্পনা শুধু ওই মসজিদে হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। স্থানীয় একটি ইহুদি উপাসনালয় এবং কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীদের প্রধান একটি বিদ্যালয়েও হামলার পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছেন জেলা অ্যাটর্নি। ১৭ বছর বয়সী কিশোরীর বিরুদ্ধে হামলার ঘটনায় সহযোগিতা এবং সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন