সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত নতুন পে-স্কেল জুলাই থেকে কার্যকর করার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি মূল বেতন, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিসহ একাধিক বিষয়ে পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আগে আরও দুই থেকে তিনটি বৈঠক করবে সচিব কমিটি। এরপর তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই গেজেট প্রকাশ এবং বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক পথ খুলবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। চলতি অর্থবছরের বাজেটে তাদের বেতন-ভাতার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখা হলেও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। অর্থনৈতিক চাপ, রাজস্ব ঘাটতি এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকির কারণে বিষয়টি সরকার সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে শুধু মূল বেতনই নয়, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব ভাতা, গ্র্যাচুইটি এবং পেনশন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। তাই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন কার্যকর করে পরবর্তী সময়ে অন্যান্য ভাতা সমন্বয়ের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নতুন পে-স্কেল নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদেরও আগ্রহ রয়েছে। কারণ, মূল বেতন বৃদ্ধি পেলে পেনশন ও অন্যান্য অবসর-সুবিধার ওপরও এর প্রভাব পড়বে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো বা হার প্রকাশ করা হয়নি। প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিও বাস্তবায়নের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সরকারি বেতন ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যারে নতুন বেতন কাঠামো যুক্ত করা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ এবং সার্ভিস রেকর্ড হালনাগাদের মতো কাজ সম্পন্ন না হলে বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সব প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা গেলে আগামী আগস্ট মাসেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে। তবে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও বর্ধিত বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকেয়াসহ সেই অর্থ পাবেন। এদিকে প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজন হলেও, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন