বিশ্বকাপের ফাইনালে সবার চোখ ছিল দুই প্রজন্মের দুই তারকার দিকে। এক পাশে লিওনেল মেসি, অন্য পাশে তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল। কিন্তু নিউইয়র্কের সেই মহারণে নীরবে লেখা হয়েছে আরেকটি গল্প—দুই কোচের মস্তিষ্কের লড়াই। একদিকে আর্জেন্টিনার লিওনেল স্কালোনি, অন্যদিকে স্পেনের লুইস দে লা ফুয়েন্তে। শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের নয়, ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে দুই কোচের কৌশল। অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলে স্পেন ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তবে এই জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের নিখুঁত পরিকল্পনা। ম্যাচজুড়ে বলের দখল, উচ্চমানের প্রেসিং এবং ছন্দ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টিনাকে তাদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলতেই দেননি।
পুরো টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়ানোর অসাধারণ ক্ষমতা দেখানো আর্জেন্টিনা ফাইনালে যেন নিজেদেরই হারিয়ে ফেলেছিল। মেসির অভিজ্ঞতা, মাঝমাঠের দৃঢ়তা কিংবা দলগত লড়াই—কোনোটিই স্পেনের সুসংগঠিত কৌশলের সামনে কার্যকর হয়ে ওঠেনি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে নিজেদের অর্ধে আটকে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে স্পেন।
ফাইনালের আগে দুই কোচ একে অপরের প্রতি গভীর সম্মান প্রকাশ করেছিলেন। দীর্ঘদিনের পরিচয় ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক থাকলেও মাঠে সেই সম্পর্কের জায়গা নেয় কৌশল। লুইস দে লা ফুয়েন্তে বুঝেছিলেন, মেসিকে থামাতে একজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় নয়, প্রয়োজন পুরো দলের সমন্বিত চাপ। সেই পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ম্যাচ শেষে স্পেনের কোচ বলেন, এই শিরোপা এসেছে বিশ্বাস, ধৈর্য এবং দলগত পরিশ্রমের ফল হিসেবে। কঠিন মুহূর্তেও তার খেলোয়াড়রা পরিকল্পনা থেকে একচুলও সরে না যাওয়ায় তিনি পুরো দলকে কৃতিত্ব দেন।
অন্যদিকে পরাজয়ের পরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছেন আর্জেন্টিনার কোচ। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, ফাইনালে স্পেনই ছিল ভালো দল। একই সঙ্গে নিজের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে বলেন, জয়ের মতো পরাজয়কেও সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করতে জানতে হয়। এই বিশ্বকাপ ফাইনাল তাই শুধু একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়; এটি ছিল দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের লড়াই। একদিকে আবেগ, ঐক্য ও লড়াইয়ের দর্শন, অন্যদিকে শৃঙ্খলা, পরিকল্পনা এবং কৌশলগত ফুটবল। শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে পরিকল্পনার, তবে সম্মান অর্জন করেছেন দুই কোচই।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন