বিশ্বকাপে স্পেনের সাফল্যের পেছনে যতটা আলো কেড়েছেন আক্রমণভাগের তারকারা, ততটাই নীরবে দলের ভিত্তি শক্ত করেছেন মাঝমাঠের নেতা রদ্রি। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে পুরো দলের ভারসাম্য ধরে রেখে এক আসরের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৬৫৫টি পাস দিয়ে গড়েছেন নতুন ইতিহাস। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বিশ্বকাপে রদ্রির দেওয়া ৬৫৫টি পাসের মধ্যে ৯৪ শতাংশই সফল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে এত বেশি পাস আর কোনো ফুটবলার দিতে পারেননি। মাঝমাঠে তার অসাধারণ নিয়ন্ত্রণই স্পেনকে প্রতিটি ম্যাচে বলের দখল ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের দাপুটে জয়ের নেপথ্যেও ছিলেন রদ্রি। গোলের শেষ মুহূর্তে অন্যদের নাম সামনে এলেও আক্রমণের সূচনা হয়েছিল তার পা থেকেই। পুরো ম্যাচজুড়ে তিনি মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিপক্ষকে খেলায় ফিরতে দেননি। বিশ্বকাপের আগে অবশ্য রদ্রিকে ঘিরে ছিল বড় প্রশ্ন। গুরুতর লিগামেন্ট চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরলেও আগের ছন্দে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল অনেকের। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই সব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে রদ্রির প্রশংসা করে বলেন, তাদের খেলার ধরনে রদ্রি অপরিহার্য একজন ফুটবলার। দলের ভারসাম্য রক্ষা, বল পুনরুদ্ধার এবং আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্পেনের কৌশলগত পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছেন রদ্রি। আক্রমণের সূচনা থেকে শুরু করে বল হারানোর পর দ্রুত প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা—সব ক্ষেত্রেই তার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মাঝমাঠে তার উপস্থিতিই স্পেনের টিকিটাকা ফুটবলকে আরও কার্যকর করে তুলেছে।
বর্তমান স্প্যানিশ দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই দীর্ঘদিন ধরে একই কোচের অধীনে খেলছেন। সেই ধারাবাহিকতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং রদ্রির নেতৃত্বই স্পেনকে আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ফাইনালেও কি মাঝমাঠের এই নীরব নায়ক নিজের ছন্দ ধরে রেখে স্পেনকে ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিতে পারেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন