বাংলা সাহিত্য ও নাট্যজগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম প্রয়াণ দিবস আজ। ২০১২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কিন্তু সময়ের স্রোত পেরিয়ে এক যুগেরও বেশি সময় কেটে গেলেও তার সৃষ্টি আজও কোটি পাঠক, দর্শক ও অনুরাগীর হৃদয়ে সমানভাবে জীবন্ত। হুমায়ূন আহমেদ শুধু একজন লেখক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি অনুভূতির নাম। তার লেখা উপন্যাস, নাটক, চলচ্চিত্র এবং গান বাংলা সংস্কৃতিকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম, একাকীত্ব, হাসি আর কান্নাকে তিনি এমন সহজ ভাষায় তুলে ধরেছেন, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে চলেছে।
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশব ও কৈশোর দেশের বিভিন্ন জেলায় কাটলেও উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। রসায়ন বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর শিক্ষকতাও করেছেন। তার সাহিত্যজীবনের সূচনা হয় প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের মাধ্যমে। প্রথম বই দিয়েই পাঠকমহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেন তিনি। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় উপন্যাস উপহার দিয়ে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সফল লেখকে পরিণত হন।
টেলিভিশন নাটকের জগতেও তিনি ছিলেন এক অনন্য নাম। ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘বহুব্রীহি’, ‘অয়োময়’, ‘কোথাও কেউ নেই’ এবং ‘আজ রবিবার’-এর মতো ধারাবাহিক নাটক আজও দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয়। তার সৃষ্ট অসংখ্য চরিত্র এখনও মানুষের স্মৃতিতে অমর হয়ে আছে। শুধু সাহিত্য বা নাটক নয়, চলচ্চিত্র নির্মাণেও নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন তিনি। তার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোও দর্শকদের ভালোবাসা কুড়িয়েছে এবং বাংলা চলচ্চিত্রে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে।
হুমায়ূন আহমেদের লেখায় ছিল সহজ ভাষার অসাধারণ জাদু। দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ ঘটনাকেও তিনি অসাধারণ গল্পে রূপ দিতে পারতেন। এ কারণেই নতুন পাঠক তৈরি করার ক্ষেত্রে তার অবদান বাংলা সাহিত্যে অনন্য। আজ প্রয়াণ দিবসে দেশের বিভিন্ন স্থানে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। পাঠক, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা তার কর্মময় জীবনের কথা স্মরণ করছেন। মানুষ বিশ্বাস করে—শরীরে তিনি না থাকলেও, তার সৃষ্টি, তার চরিত্র এবং তার শব্দের জাদু বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে চিরকাল বেঁচে থাকবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন