ঢাকা | |

বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপাতে অপচয় ৩০০ কোটি টাকা!

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতি ফর্মা ছাপার মূল্য বাড়ানোর ফলে
  • আপলোড সময় : ১৮ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:৩৬ সময়
  • আপডেট সময় : ১৮ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:৩৬ সময়
বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপাতে অপচয় ৩০০ কোটি টাকা!

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতি ফর্মা ছাপার মূল্য বাড়ানোর ফলে সরকারের অতিরিক্ত কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), মুদ্রণ শিল্প সংশ্লিষ্টরা এবং শিক্ষা খাতের বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রতি ফর্মা বই ছাপার সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ৩ টাকা ১০ পয়সা। তবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য চলমান দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রতি ফর্মার মূল্য ৩০ পয়সা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রায় এক হাজার কোটি ফর্মা ছাপার কাজে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।


এনসিটিবির সাবেক এক চেয়ারম্যানের ভাষ্য, দরপত্র কার্যক্রম চলাকালে মূল্য পরিবর্তন করা হলে তা বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অন্যদিকে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, আগের বছর যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রাক্কলিত মূল্য তুলনামূলক কম রাখা হয়েছিল। এবার পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে। তবে দরপত্র চলাকালে মূল্য পরিবর্তনের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান।


এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক আবু নাসের টুকু দাবি করেন, সব নিয়ম মেনেই ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে এবং মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিক নয়। একই সঙ্গে এনসিটিবির সচিবও স্বীকার করেছেন, কিছু বইয়ের ক্ষেত্রে ছাপার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে মুদ্রণ শিল্পসংশ্লিষ্ট কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, কাগজের মূল্য এবং সরবরাহকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের চাপ ও অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে। তাদের দাবি, বাজারদরের চেয়ে বেশি মূল্যে কাগজ কেনার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


পেপার মিল ও ছাপাখানার মালিকদের মধ্যেও কাগজ সরবরাহ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ আনুষ্ঠানিক চুক্তির পক্ষে থাকলেও অন্য পক্ষ বিদেশ থেকে কাগজ আমদানির সুযোগ চাচ্ছে, যাতে কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধের ঝুঁকি কমে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কাগজকল ও ছাপাখানা মালিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। তবে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে দরপত্র প্রক্রিয়া, ব্যয় নির্ধারণ এবং কাগজ ক্রয়ের পুরো প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
পশ্চিমবঙ্গে শিগগিরই পুনরায় ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল: মমতা

পশ্চিমবঙ্গে শিগগিরই পুনরায় ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল: মমতা