বাংলাদেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য এবং ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর দেশ-বিদেশে থাকা প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের আদেশে জব্দ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির প্রধান জানান, জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা দেশের অভ্যন্তরে এবং প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিদেশে রয়েছে। তবে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
তিনি বলেন, বিদেশে থাকা সম্পদ উদ্ধারের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পাচার হওয়া সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির আশা করা হচ্ছে। সংস্থাটি আরও জানায়, এ পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগে ১১টি যৌথ তদন্তের আওতায় ৯৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং অভিযোগ ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত অর্থবছরে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি প্রতিবেদন জমা পড়েছে, যার ৯৫ শতাংশই এসেছে ব্যাংক খাত থেকে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল হুন্ডি, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংশ্লিষ্ট সন্দেহজনক লেনদেন বাড়ায় এসব খাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কাজও চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন